উত্তুরে হাওয়ায় ভেসে নিত্য প্রাকৃতিক নিয়মে সমাপ্তি হলো আরও একটি বছর। সময় এসেছে আরও একবার নতুনের অবগাহনে সিক্ত হওয়ার। রাষ্ট্র, রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতিসহ আর সবকিছুর মতো দেশের ক্রীড়াঙ্গন বিশেষ করে ক্রিকেটেও লাগবে সেই ঢেউ। নতুন বছরে পুরনোকে সঙ্গী করে প্রয়াস চলবে কীর্তি ছাপিয়ে যাওয়ার।
মাশরাফী-তামিম-সাকিবদের নিশান বয়ে চলবেন শান্ত-লিটন-মিরাজরা। একটি নৈপুণ্যময় বছর পার করে জ্যোতি-নাহিদা-ফারজানা-মারুফারাও চাইবেন ধারা অব্যাহত রাখতে। ক্রিকেটে পুরনো বছরটির যবনিকাপাত হয়েছে শেষ দিনটিতে কিউইদের সঙ্গে তাদের মাটিতেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র করে। সেখান থেকে দেশে ফিরে কটা দিন আয়েশে কাটিয়ে আবার ব্যস্ত হবেন পুরুষ ক্রিকেটাররা।
১৯ জানুয়ারিতে পর্দা উঠবে ঘরোয়া সর্বোচ্চ ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। প্রায় দেড় মাস চলার পর মার্চের প্রথম দিন ফাইনাল দিয়ে সমাপ্তি টানা হবে। আর তার পরেই শুরু হবে আন্তর্জাতিক সার্কিটে ক্রিকেটারদের ব্যস্ততা। বিপিএলের পর বাংলাদেশ সফরে আসবে শ্রীলঙ্কা। মার্চে লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ফরম্যাটের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সূচিতে রয়েছে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এর পরের মাসেই এপ্রিলে জিম্বাবুয়েকে আতিথ্য দেওয়ার পালা। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পাশাপাশি বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে শান্তরা। এই সিরিজ শেষে উত্তর আমেরিকায় উড়াল দেবে বাংলাদেশ।
বছরের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বসবে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে। নতুন ফরম্যাটের ২০ দল নিয়ে হতে যাওয়া আসরটি চলবে ৪ জুন থেকে ৩০ জুন অব্দি। এখনো অবশ্য আসরের গ্রুপিং ও পূর্ণাঙ্গ সূচি নির্ধারিত হয়নি। র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি এই মেগা আসরে অংশ নিয়ে অন্তত চারটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপের পর জুলাই-আগস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির সঙ্গে দুটি ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজও খেলবে দুই দল। এ সিরিজটি হতে পারে আরব আমিরাতে। আফগানিস্তানের হোম ভেন্যু হিসেবে আপাতত সেখানেই ম্যাচ খেলে তারা।
আফগানিস্তান অভিযাত্রা শেষ করে তাদেরই প্রতিবেশী পাকিস্তান সফরে যাবে দল। অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে শুধু দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। এই সূচিতে নেই অন্য কোনো ফরম্যাটের ম্যাচ। পাকিস্তানের পর ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সেখানে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পাশাপাশি তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে টাইগাররা।
এরপর অক্টোবর-নভেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই সিরিজে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে শুধুমাত্র দুই ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। নতুন বছরের ব্যস্ত সূচির শেষ পর্বে নভেম্বর-ডিসেম্বরে পুনরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করবে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ রয়েছে লিটন-মিরাজদের। তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচসহ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অংশ নেবেন বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেটাররা।
সাকিব-শান্তদের ব্যস্ততার বিস্তারিত জানা গেলেও জ্যোতি-নাহিদাদের বেলায় খানিক প্রতীক্ষা করতেই হবে। নতুন বছরে জ্যোতিদের মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ সফরে আসবে অ্যালিসা হিলির অস্ট্রেলিয়া নারী দল। মার্চ-এপ্রিলে অজি নারীদের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশের।
এরপর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ঘরের মাঠে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করবে বাংলাদেশ। ১০ দেশের অংশগ্রহণে হতে যাওয়া এ বৈশ্বিক আসরে আয়োজক দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান জাহির করবেন নারী ক্রিকেটাররা। এছাড়া বছরে অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অংশ নেবেন জ্যোতিরা।