হোয়াইট লাইটনিং হিসেবে বিশ্বে পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা পেসার অ্যালেন ডোনাল্ড। ৭২ টেস্টে ৩৩০ উইকেট নেওয়া ডোনাল্ড মনে করেন কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে ভালো করতে হলে সৃজনশীল বোলিং করতে হবে ভারতীয় বোলারদের। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরিয়নে ইনিংস ও ৩২ রানের ব্যবধানে হারে ভারত।
প্রথম টেস্ট হেরে যাওয়ায় মান রক্ষা করতে হলে দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে ভারতকে। আর টেস্ট জিততে হলে বোলারদের ভালো করার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিপক্ষ দুইবার অলআউট করতেই হবে। তাই কেপটাউনের পিচ ও কন্ডিশন বিবেচনায় ভারতীয় বোলারদের সতর্ক করে দিলেন বাংলাদেশের সাবেক পেস বোলিং কোচ ডোনাল্ড।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কিংবদন্তি জানিয়েছেন, 'আমি জানি (প্রথম টেস্টে) দক্ষিণ আফ্রিকা কন্ডিশনকে অনেক ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। এই বিষয়ে আলাদা করে কোনো প্রশ্ন থাকতেই পারে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা পিচে ৫ থেকে ৫.৫ মিটার লেন্থে বল করেছে। যার সুবিধা তারা পেয়েছে। এই কাজটাই ভারতীয় বোলাররা ঠিকভাবে করতে পারেনি।'
যোগ করেন, 'দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো বোলিংয়ের জন্য পিচের সাহায্য নিতে জানতে হয়। ভারতের থেকে এই জায়গায় এগিয়ে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান পেসাররা। তারা অনেক বেশি ধৈর্য্য রেখেছে। যা ভারতীয় বোলাররা রাখেনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও তারা বাউন্সার অনেক বেশি ব্যবহার করেছে,' বলেন এই সাবেক তারকা পেসার।
সেঞ্চুরিয়নে ভারতীয় বোলাররা বেশি তাড়াহুড়ো করেছে বলে মনে করেন ডোনাল্ড, 'ভারতের হয়ে প্রসিধ কৃষ্ণার অভিষেক হয়েছে। আমি মনে করি জাসপ্রিত বুমরাসহ সব ভারতীয় বোলার অতিরিক্ত কিছু করার আশায় তাড়াহুড়ো করেছে। খুব তাড়াতাড়ি তারা অনেক বেশি শর্ট বল করেছে। ফলে লাইন এবং লেন্থ নিয়ে তারা সমস্যায় পড়েছে। ফলে স্কয়ার লেগ, অফ সাইড কোন একটা দিক ওপেন হয়ে গিয়েছে। সেটি কাজে লাগিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা।'
বল ও পিচের ব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোকাবুরা বল ২৫-৩০ ওভারের পরেই পুরনো হয়ে যাওয়ায় সুইং পাওয়া যায় না ঠিকমতো। তাই পিচের ব্যবহার করে থাকেন দক্ষিণ আফিকার পেসাররা।’
কেপটাউনে ভারতীয় পেসারদের সৃজনশীলতার পরীক্ষা হবে বলে জানান তিনি, 'কেপটাউনে কিন্তু ব্যাপারটা সহজ হবে না। এখানে দুই দলের বোলাররাই অনেক বেশি এনার্জি নিয়ে খেলতে আসবে। কেপটাউনে কিন্তু উইকেট অনেক বেশি পাটা হবে। ফলে এখানের পিচে উইকেট নিতে গেলে ভারতীয় বোলারদের অনেক বেশি সৃজনশীল হতে হবে। এই টেস্টটা আরো কঠিন হতে যাচ্ছে।'