যশোরের গদখালী ফুলের বাজারে হরেক রং আর বাহারি নামের ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন শত শত ফুলচাষি। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখরিত ঝিকরগাছার এ বাজার। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত রমরমা থাকে বেচাকেনা। শুধু নতুন বছরকে ঘিরেই ফুল বিক্রি হয়েছে প্রায় দু-তিন কোটি টাকার।
গদখালী ফুলের পাইকারি বাজারে একশ গোলাপ প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত। গ্ল্যাডিওলাস কালার ও প্রকারভেদে প্রতি পিস ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। রজনীগন্ধা প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে সাত টাকা পর্যন্ত, গাঁদা ফুল বিক্রি হচ্ছে হাজার পাঁচশ থেকে সাতশ টাকা পর্যন্ত। জারবেরা বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ১২ টাকা থেকে ১৭ টাকা পর্যন্ত, চন্দ্রমল্লিকা বিক্রি হচ্ছে চার টাকা থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত।
গতবছরের তুলনায় এবছর ফুলের দাম কিছুটা বেশি। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় খুশি চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
ফুলচাষিরা বলেন, আবহাওয়া ভালো। এতে ফুল উৎপাদনও ভালো হয়েছে। দামে তারা সন্তুষ্ট। ব্যবসায়ীরা বলেন, গাঁদাসহ অন্য ফুলের চাহিদাও বেশ। আমরা নতুন বছর উপলক্ষে সারাদেশেই ফুল সরবরাহ করছি।
নতুন বছরের আগেই বিক্রি প্রায় তিন কোটি টাকার কাছাকাছি বলে জানায় ফুল ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি। সংগঠনটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, নতুন বছরের আগে ব্যবসা ভালো হয়েছে। আড়াই কোটি টাকার বেশি ফুল বিক্রি হয়েছে। সামনে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এসব দিবসকে কেন্দ্র করে এখানকার ফুল ব্যবসা আরও বাড়বে।
উল্লেখ্য, দেশের সবচেয়ে বড় ফুলের বাজার যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী। প্রতিবছর এখানে ৬৩০ হেক্টর জমিতে ৭২ প্রজাতির ফুল চাষ হয়। ফুলকে কেন্দ্র করে এ এলাকার লাখো মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে।