কদিন আগেই সাবরিনা একটি ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, তিনি প্রয়োজনে মেডিকেলে পড়েছিলেন এবং একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইন পড়া শুরু করেছেন। তার সেই কথাতে ডাক্তারি ছেড়ে আইনজীবী হওয়ার ইঙ্গিত ছিল। তবে সাবরিনা নিজেই আরেকটি সংবাদ লিঙ্ক নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন যেখানে তিনি বলছেন, চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি আইনজীবী হবেন।
ওই ভিডিওবার্তায় ডা. সাবরিনা বলেছিলেন,একটা সময় আমি ভাবতাম মানুষের জীবন বাঁচানো সবচেয়ে জরুরি। সেসময় আমি মেডিকেলে পড়েছি। কোনো এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমার কাছে মনে হয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের জীবনের চাইতে মানুষের মান সম্মান বাঁচানো জরুরি। এজন্য এখন আমি ল পড়ছি। আমি এলএলবি ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছি।
অর্থাৎ আইন পেশায় যুক্ত হবার আগে স্পষ্টতই ইঙ্গিত ছিল চিকিৎসা পেশাকে কার্যত বিদায় জানানো।
করোনা ভাইরাস মহামারীর সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই জেকেজি হেলথকেয়ার ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয়। এর বেশিরভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে। এ অভিযোগে ২০২০ সালের ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে ডা. সাবরিনা এবং তার স্বামী প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আরিফুল হকের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয় এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সম্প্রতি তিনি কারামুক্ত হয়েছেন। এরপরেই আইন পেশায় নিয়োজিত হওয়ার জন্য এলএলবিতে ভর্তি হয়েছেন। ডা. সাবরিনার ডাক নাম মিষ্টি। ভিকারুননিসা নুন স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন তিনি। স্যার সলিমুললাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন ও বিসিএস ক্যাডারে যোগদানের মাধ্যমে চাকরিজীবন শুরু করেন।
পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কার্ডিও ভাস্কুলার ও থোরাসিক সার্জারিতে এম এস ডিগ্রি লাভ করেন। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে বিশেষজ্ঞ সার্জন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও টেলিভিশনে স্বাস্থ্য বিষয়ক টকশো করেও পরিচিতি পান।