ইতিহাসের পাতা উল্টেপাল্টে দেওয়ার জন্যই বোধহয় কেপটাউন টেস্টটি মাঠে গড়িয়েছে। হোয়াইট লাইটনিং খ্যাত প্রোটিয়া কিংবদন্তি অ্যালেন ডোনাল্ড হুঁশিয়ার করেছিলেন, সহজ হবে না কেপটাউন টেস্ট। হয়নি মোটেও। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টটি এত চাঞ্চল্যকর হবে ভাবেননি ডিন এলগার। টেস্টের এক দিনে দ্বিতীয়বার ২৩ উইকেট পতনের সাক্ষী হলো পৃথিবী। যা এর আগে এই মাঠেই ঘটেছিল ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে।
কেপটাউন টেস্টে প্রোটিয়ারা টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে চূর্ণ হন মোহাম্মদ সিরাজের পেসতোপে। ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ৫৫ রানেই। দক্ষিণ আফ্রিকার অষ্টম সর্বনিম্ন টেস্ট ইনিংস এটি। নির্বাসন থেকে ফেরার পর এটিই তাদের টেস্টে সর্বনিম্ন ইনিংস। ১৯১২ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫৮ রানে অলআউট হওয়ার ১১১ বছর পর ভারতের কাছে ৫৫ রানে গুটিয়ে গেল প্রোটিয়ারা। ক্যারিয়ারের নতুন কীর্তিও গড়েছেন সিরাজ। প্রথমবারের মতো নিয়েছেন টেস্টে ৬ উইকেট। ৯ ওভার বল করে ৩ মেডেন আর ১৫ রান খরচায়। এটিই এখন তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং নৈপুণ্য। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইতে উইন্ডিজের বিপক্ষে ৬০ রানে ৫ উইকেট ছিল তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অবশ্য ৫৯ রানে ৮ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে সিরাজের। মুকেশ ও বুমরা দুটি করে উইকেট পান।
জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসও যে দিনের ২৭ ওভার বাকি থাকতে শেষ হয়ে যাবে ভাবার কথা না ভারতের। তবে হয়েছে তাই। টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিনা রানে ৬ উইকেট হারানোর লজ্জা পেতে হয়েছে ভারতের। বিরাট কোহলির ৪৬, অধিনায়ক রোহিতের ৩৯ ও শুবমান গিলের ৩৬ রানের পর ৩৩ ওভারে ভারতের রান ছিল ৪ উইকেটে ১৫৩। ১১ বলের ব্যবধানে ওই ১৫৩ রানেই অলআউট হয় ভারত। প্রথম ইনিংসে ৯৮ রানে পিছিয়ে থাকলেও এনগিডি ও রাবাদার ১১ বলের জাদুকরি স্পেলে ম্যাচে ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। তিন প্রোটিয়া পেসার এনগিদি, রাবাদা ও বার্গার নেন তিনটি করে উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ৬২ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। শেষ টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ রানে আউট হন এলগার। মুকেশ ২টি ও বুমরা ১টি উইকেট নেন। দিনশেষে প্রোটিয়ারা পিছিয়ে আছে ৩৬ রানে।