ফেনীর সোনাগাজীতে পৌরশহরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ব্যস্ততম প্রধান সড়কে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে অস্থায়ী মঞ্চে ছাত্রলীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানারে নির্বাচনী সভা করেছেন জাতীয়পার্টির প্রার্থী লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। নামে পথসভা হলেও সেখানে পৌরসভা এবং চর চান্দিয়া ও সদর ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতাকর্মীর ঢল নামে। সভার আধা ঘন্টা আগে থেকেই ওই এলাকায় জমায়েত হতে থাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে আগত নেতাকর্মীরা। ফলে বিকেল তিনটা থেকে থেকে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটেছে। একই সঙ্গে শহরে দেখা দেয় তীব্র যানজট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে তিনদিকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গেছে। এর মধ্যে একটি সড়ক গেছে পূর্ব দিকে। ওই সড়ক দিয়ে থানা পুলিশ, উপজেলা হাসপাতালসহ মুহুরী প্রকল্প এলাকায় যাতায়াত করেন লোকজন। পশ্চিম দিকের সড়ক দিয়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জসহ উপজেলার দুটি ইউনিয়নের লোকজন চলাচল করে। অপরটি হচ্ছে ফেনী-সোনাগাজী সড়ক। জিরো পয়েন্ট এলাকায় সড়কের ওপর পথসভার জন্য একটি পিকআপ দিয়ে অস্থায়ী মঞ্চ করা হয়েছে। মঞ্চের সামনে ও দুপাশে লাঙ্গলের সমর্থনে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকার কর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে এসে অবস্থান নেয়। বিকেল তিনটায় পথসভা শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শেষ হয়।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মফিজুল হকের সভাপতিত্বে ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়বের সঞ্চালনায় পথসভায় বক্তব্য দেন জাতীয়পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুর আলম শাহীন, অভিনেত্রী সমী কায়সার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ, সাবেক চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি নাছির উদ্দিন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান জোবেদা নাহার, চর চান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান প্রমূখ।
মঞ্চের সামনের সড়কে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারও নেতা-কর্মীরা ছিলেন। এসময় জিরো পয়েন্টের তিনদিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহন, মালবাহি গাড়ি, জনগন ও দূর-দূরান্তের মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়।
জাতীয় সংসদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা-২০০৮ এ উল্লেখ আছে, ‘কোনো প্রার্থী জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে, এই রূপ কোনো সড়কে পথসভা করতে পারবেন না বা সভা করার উদ্দেশ্যে মঞ্চ তৈরি করতে পারবেন না।’ এ সময় লাঙ্গলের প্রার্থীর পথসভাকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কোন সদস্য সভাস্থলে ছিলেন না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, জিরো পয়েন্ট চত্বর এলাকার যে সড়কে পথসভার জন্য অস্থায়ী মঞ্চ করা হয়েছিল, তাতে মানুষের চলাচলের কোনো অসুবিধা হয়নি। চত্বর থেকে পূর্ব দিকে হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য বিকল্প সড়ক আছে।
তিনি বলেন, পথসভা তো পথেই করতে হবে। মাঠে করলে সমাবেশ হয়ে যাবে। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই এটা করা হয়েছে। সড়কের পাশে অস্থানীয় পিকআপে মঞ্চ তৈরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে তিনটি সড়ক আছে। মানুষের চলাচলের কথা চিন্তা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রশাসনসহ দলীয় সবার সঙ্গে আলোচনার পর এই স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। এতে যানবাহন কিংবা মানুষের চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি দাবি করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামী রবিবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীসহ ১০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও কামরুল হাসান বলেন, সড়কের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে কেউ পথসভা করতে পারবেন না। এটা করলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হবে। বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে পথসভার আয়োজক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামকে অন্যত্র সভা করার জন্য বলেন। মেয়র স্বল্প পরিসরে পথসভা করবেন এবং যান চলাচলেও মানুষের কোন ভোগান্তি হবে না বলে জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পথসভা নিয়ে আচরণ বিধি ভঙ্গে অভিযোগ উঠায় বিষয়টি তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।