যুদ্ধের পর গাজার নিয়ন্ত্রণ কিভাবে কে করবে এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। হামাসের হাত থেকে গাজা ছিনিয়ে নেওয়ার পর ফিলিস্তিনি এ ভূখণ্ডে ইসরায়েলি আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পাবে এমন ধারণা আরও বদ্ধমূল হল এবার। গাজায় নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরলেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্ত।
শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শেষ হলে গাজায় আর হামাসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে গাজার পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে ইসরায়েলের হাতে। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্তের বিনিময়ে গাজা উপত্যকার সীমিত নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা পাবে ফিলিস্তিনিরা।
ইয়োভ গালান্ত বলেন, উপত্যকাটিতে ইসরায়েল চাইলে পশ্চিম তীরের মতো যে কোনো সময় সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। এ সময় গাজার সীমান্ত অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে থাকবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত গালান্তের চারটি পরিকল্পনার অধীনে প্রথমত যুদ্ধ শেষে ইসরায়েল গাজার সার্বিক নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখবে। দ্বিতীয়ত আন্তর্জাতিক শক্তি গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠনের দায়িত্ব পালন করবে।
তৃতীয়ত এ পরিকল্পনায় মিশর একটি অনির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করবে। চতুর্থত আনুষ্ঠানিকভাবে গাজা অঞ্চলের শাসনক্ষমতা থাকবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে। এ সময় অঞ্চলটিতে কোনো ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক থাকতে পারবে না বলে জানান তিনি। তবে যুদ্ধপরবর্তী গাজা অঞ্চলের শাসনভার পাওয়া ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অবশ্যই এই এলাকা থেকে ইসরায়েল যেন সুরক্ষিত থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
গালান্তের মতে, শুধু সামরিক নয় বরং কোনোভাবেই গাজা অঞ্চলের বাসিন্দারা ইসরায়েলের জন্য কোনো প্রকার হুমকি যাতে না সৃষ্টি করতে পারে তার দায়িত্ব থাকবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে।
এদিকে ইসরায়েল যখন গাজা দখলের এই নীলনকশা প্রকাশ করছে তখনো নিধনযজ্ঞ চলছে সেখানে। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় নিহত হয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ।
এছাড়া ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এমন সময়ে এই পরিকল্পনার কথা জানালেন যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন চলতি সপ্তাহে গাজা যুদ্ধ শুরুর চতুর্থবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে সফরে আসছেন। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে ব্লিঙ্কেনের।
গত মঙ্গলবার (২ জানুযারি) লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামাসের শীর্ষ নেতা সালেহ আল-আরোরি হত্যার পর এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এদিকে ইসরায়েলি বিমানহামলায় লেবাননের ৯ হিজবুল্লাহ সেনা নিহত হয়েছেন। সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়তে থাকায় ব্লিংকেনের এ সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে।