সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আজ তৃতীয় দিনে চা-বিরতির পর ১৪ রানের লিড নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল পাকিস্তান। প্রথম দুই ওভারের ব্যাটিং দেখে বিপদটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন অনেকেই।
প্রথম ওভারে মিচেল স্টার্কের ভেতরে ঢোকানো দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড আবদুল্লাহ শফিক (০)। পরের ওভারে জশ হ্যাজলউডকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন অধিনায়ক শান মাসুদ। তখন মনে হয়েছিল, পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে মড়ক লাগলেও লাগতে পারে!
কিন্তু বাবর আজম ও সাইম আইয়ুব অন্য কিছু ভেবে রেখেছিলেন। তৃতীয় উইকেটে ৫৭ রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটান দুজন। ৩৩ রানে সাইম দিনের শেষ ভাগে নাথান লায়নের বলে এলবিডব্লু হওয়ার পরও পাকিস্তানের দুশ্চিন্তা তেমন ছিল না। কারণ, বাবর আজম উইকেটে মোটামুটি ‘সেট’ ছিলেন। কিন্তু দিনের শেষ ভাগে বাবর, সৌদ শাকিল, সাজিদ খান ও আগা সালমানের উইকেট শেষ পর্যন্ত এলোমেলো করে দেয় পাকিস্তানকে। হ্যাজলউড ১ ওভারে নেন ৩ উইকেট, ৭ উইকেটে ৬৮ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে পাকিস্তান, তাদের লিড এখন ৮২ রানের। দিনে পড়েছে ১৫টি উইকেট, এর মধ্যে শেষ সেশনেই ৭৮ রানে পড়েছে ১১টি।
বাবর ও সাইমের জুটির সময় ‘পার্ট টাইম’ স্পিনার ট্রাভিস হেডকে বোলিংয়ে এনেছিলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ২৩ রান করা বাবর ২১তম ওভারে তাঁকে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসবন্দী হন। এবারের সফরে পাকিস্তানের ৬ ইনিংসের একটিতেও বলার মতো রান পেলেন না বাবর। ৪ ওভার পরই ‘ট্রিপল’ আঘাত হানেন হ্যাজলউড। ২৫তম ওভারে তুলে নেন শাকিল, নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা সাজিদ ও সালমানকে।
ওভারটির প্রথম বলে সৌদ স্লিপে ক্যাচ দেন স্মিথের হাতে। তৃতীয় বলে বোল্ড হন সাজিদ। এরপর পঞ্চম বলে ডেভিড ওয়ার্নারকে ক্যাচ দেন সালমান। এক ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মড়ক এড়াতে পারেনি পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে নয়ে নেমে ৮২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলা আমের জামালকে নিয়ে তৃতীয় দিনের বাকি সময় পার করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। দলীয় ৫৮ থেকে ৬৭—এই ৯ রান তুলতে পাকিস্তান হারিয়েছে ৫ উইকেট। ৫ ওভারে ৯ রানে ৪ উইকেট নেন হ্যাজলউড।