বগুড়া-৩ আসন

এবারও নৌকায় ভোট দিতে না পারায় নেতাকর্মীদের আক্ষেপ

গতকাল রবিবার (৭ জানুয়ারি) শেষ হয়ে গেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের ন্যায় বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও এই আসনের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল চাপা ক্ষোভ। এই নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে তাদের আশা আগামীতে দলীয় প্রতীকে ভোট দিতে পারবেন। দলীয় প্রধান এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত করবেন। 

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা। ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে এসে একটু আক্ষেপ নিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মী বললেন এবারও দলীয় প্রতীকে ভোট দিতে পারলাম না।

আওয়ামী লীগ করার পরেও ২২ বছরের বেশি সময় ধরেও নৌকাই ভোট দিতে পারি না। আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হওয়ার পরও গত ৪টি জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে পারি নাই। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৩ আসনের একটি ভোট কেন্দ্রে দেশ রূপান্তরকে এমনটাই বলছিলেন আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রুকুনুজ্জামান রুকু। 

তার মতো আরেকজন আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু বললেন, মন খারাপ হয়েও কোনো লাভ নাই। আমরা বার বার এখানে নৌকা চেয়েছি। হাই কমান্ড যদি না দেয় তাহলে আমাদের করার কিছু নাই। আমরা বার বার নেত্রীর কাছে আবেদন করি। তারপরও দল যতদিন আছে, ততোদিন নৌকা মার্কা চেয়ে যাবো এই আশাই আছি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-৩ আসন (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) ২০০১ সালে নির্বাচনে নৌকার দলীয় মনোনয়ন পেয়েও এই আসনে আওয়ামী লীগ নেতা আনসার আলীর মৃধার মনোনয়ন বাতিল করে প্রতীক বরাদ্দের এক দিন আগে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারি মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মওলাকে দলীয় মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেয় নাই আওয়ামী লীগ। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী ছিলেন আ্যডভোকেট নুরুল ইসলাম তালুকদার। এই আসনে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা ভাল না থাকায় ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোট প্রার্থী হওয়ার কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করে তাকে জয়ী করেন। এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে নৌকা প্রতীক সিরাজুল ইসলাম খান রাজুকে দিলেও পরে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আবারও জাতীয় পার্টিকে দেয় হয় এই আসন।

এই আসনে আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় প্রার্থী ছিল না। প্রথমে আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান রাজুকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর ফলে ব্যাপক উল্লাস ও উদ্দীপনা দেখা যায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। কিন্তু পরবর্তীতে সমঝোতার জন্য জাতীয় পার্টির পর পর দুইবারের এপমি নুরুল ইসলাম তালুকদারকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে আবারও নৌকাবিহীন ব্যালেট পায় ওই নির্বাচনী এলাকার ভোটারসহ আওয়ামী লীগের নেতারা। অবশেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে খান সাইফুল্লাহ আল মেহেদী হাসান বাঁধন ট্রাক প্রতীককে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বাঁধন আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং সিরাজুল ইসলাম খান রাজুর ছেলে।