নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা মামলায় মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন মুখ্য বিচাররিক হাকিম মুজিবনগর আদালতের বিচারক জাহিদুর রহমান। আজ বুধবার দুপুরে মামলার ১৮ জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থণা করলে আদালত ১৭ জনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং জিয়াউদ্দিন বিশ্বাসের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নির্বাচনের পরদিন ৮ জানুয়ারী মুজিবনগর উপজেলার সাবেক ইউপি মেম্বার মেনতার নেতৃত্বে নৌকার বিজয় উপলক্ষ্যে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি মুজিবনগরের আনন্দবাস গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক মার্কার নেতা জিয়াউদ্দিন বিশ্বাসের বাড়ির কাছে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২৫ জন আহত হয়। পুলিশ গুলি টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওই ঘটনায় পরদিন ৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ কর্মী আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে জিয়াউদ্দিন বিশ্বাসসহ ২৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
বাদীর অভিযোগ, ৮ জানুয়ারি রাতে নৌকার বিজয় উপলক্ষ্যে মুজিবনগর উপজেলা বাজারে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি আনন্দবাস বিশ্বাস পাড়ায় গেলে জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস ও তার কর্মী সমর্থক বাড়ি থেকে বের হয়ে এসে মেনতা মেম্বারের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলের ওপর হামলা করে।
আদালতে আসামিপক্ষে জামিন শুনানি করেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলীসহ অনেকে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে অংশ নেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি পল্লব ভট্টাচার্য্য ও কোর্ট ইন্সপেক্টর সৌমেন।