সাজা শেষ হওয়ার পরও ১৭ ভারতীয় শরীয়তপুর কারাগারে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

সাজা শেষ হওয়ার পরও ১৭ ভারতীয় আটকে আছেন শরীয়তপুর জেলা কারাগারে। দূতাবাসের অনিচ্ছা, প্রশাসনিক জটিলতা ও ভুল ঠিকানার কারণে ওই বন্দিরা নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।

শরীয়তপুর জেলা কারাগার জানায়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে অনুপ্রবেশের দায়ে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে ২০ ভারতীয় নাগরিককে আটক করে যৌথবাহিনী। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। কারো এক বছর, আবার কারো দেড় বছর। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে তিন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আর বাকি ১৭ ভরতীয় নাগরিক সাজা শেষে দূতাবাসের অনিচ্ছা, প্রশাসনিক জটিলতা ও ভুল ঠিকানার কারণে ওই বন্দিরা নিজ দেশে ফিরতে না পেরে বন্দি অবস্থায় কারাগারে আটকে রয়েছেন। ১৭ বন্দি রিলিজ প্রিজনার (বন্দি মুক্তি) হিসেবে রয়েছেন শরীয়তপুর কারগারে।

২০২২ সালের ৮ অক্টোবর পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হন সতেন্দ্র কুমার (৪০) । এরপর অনুপ্রবেশ আইনে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার পুলিশের করা মামলায় ওই দিনই তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি সতেন্দ্র কুমার কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুপুর পৌনে ১টায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সতেন্দ্র কুমার ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের সাথুরা জেলার চেয়াপুর এলাকার চন্দ্রপালের ছেলে।

এদিকে, বাবুল সিংকে ২০২২ সালের ১৭ মে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজা এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আটক করেন। পরে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আইনে জাজিরা থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাবুল সিংকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ। বাবুল সিং ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল রাতে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় বাবুল সিংয়ের বাবা-মায়ের নামসহ ঠিকানাও জানতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, রাজনকে ২০২২ সালে ২৫ আগস্ট জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আইনে জাজিরা থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাবুল সিংকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

২০২৫ সালের ১৮ মে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজন ভারতের দিল্লি প্রদেশের দিলিপের ছেলে। তবে তার জেলার নাম জানা যায়নি।

মৃত্যুর পর রাজন ও সতেন্দ্র কুমারের মরদেহ বেশ কয়েদিন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছিল। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিল হয়। সেই বিল পরিষদ করতে হয় জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের।

শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেলা সুপার মো.বজলুর রশীদ বলেন, ১৭ ভারতীয় নাগরিক কারাগারে বন্দি অবস্থায় আছেন। এছাড়াও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মর্গে ও হিমাগারে রাখা হয়েছিল। পরে দুই দেশের পরামর্শে তাদের সৎকার করা হয়। আর যারা বন্দি অবস্থায় আছেন তাদের সাজার মেয়াদও শেষ। তাদের ভারত ফেরতের ব্যাপারে কয়েকবার চিঠি আদান প্রদান হয়েছে। কিন্তু ভারত সরকারের পক্ষে তাদের নেয়ার কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আশা করি দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান ঘটবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত