রবিউলের আক্ষেপ

আসিফ হোসেন খান পারেননি। আব্দুল্লাহ হেল বাকীকে দিয়েও হয়নি। দুই শুটিং তারকাকে অলিম্পিক স্বপ্ন পূরণে নির্ভর করতে হয়েছে ওয়াইল্ড কার্ডের। তবে উত্তরসূরিদের পেছনে ফেলার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন তরুণ রবিউল ইসলাম। তবে তিনিও পারলেন না অলিম্পিকের সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে। মাত্র ০.৩ পয়েন্টের জন্য ইতিহাস গড়া হলো না। বরং আক্ষেপ নিয়েই ফিরতে হবে তরুণ রাইফেল শুটারকে। একই সঙ্গে প্যারিস অলিম্পিকে সুযোগ পেতে তার অপেক্ষায় থাকতে হবে ওয়াইল্ড কার্ডের।

ইন্দোনেশিয়ায় হচ্ছে এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল চ্যাম্পিয়নশিপ। এশিয়া পর্যায় থেকে অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জনের শেষ সুযোগ এই আসর। প্যারিস অলিম্পিকের আগে ব্রাজিলে হবে বিশ্বকাপ। সেখানে আরেকটা সুযোগ থাকবে। তবে সেখান থেকে কোটা অর্জন ভীষণ কঠিন। ৮ জানুয়ারি ছেলে ও মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ব্যর্থ হয়েছিলেন বাংলাদেশের শুটাররা। কেউই পারেননি বাছাই উতরে চূড়ান্তপর্বে যেতে। আশা ছিল রাইফেল শুটারদের ঘিরে। ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে ছয়জনের মধ্যে কেবল রবিউল দেখিয়েছিলেন স্বপ্ন। তবে অল্পের জন্য তিনি পারেননি বাছাই উতরে ফাইনালে যেতে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে সেরা আটে থাকতে পারলেই মিলত প্যারিসের টিকিট। বাছাইয়ে রবিউল তোলেন ৬২৮ পয়েন্ট। আর সর্বশেষ ফাইনালিস্ট ইন্দোনেশিয়ার ফাথুর গুস্তাফিয়ান ৬২৮.৩ পয়েন্ট নিয়ে পেয়েছেন অলিম্পিক কোটা। আগের আসরগুলোতেই কোটা নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন ভারত ও চীনের চার প্রতিযোগী। ফলে ফাইনালে কোনোভাবে থাকলেই মিলত কোটা। রবিউল সেটা পারেননি শেষ সিরিজে প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ করায়। প্রথম তিন সিরিজ দেখে অবশ্য মনে হচ্ছিল এবার স্বপ্ন পূরণ হবে। ১০৪, ১০৫.৬, ১০৫.৫ স্কোর গড়ে ভালোই এগুচ্ছিলেন। চতুর্থ সিরিজে অবশ্য ছন্দপতন ঘটে রবিউলের, ১০৪ স্কোর করেন। তবে পঞ্চম সিরিজে ১০৫.৬ স্কোরে ফের সম্ভাবনা জাগান। তবে শেষ সিরিজে স্নায়ুর চাপে ভেঙে পড়েন রবিউল। বাছাই শেষ করে ১০৩ পয়েন্টে। জাকার্তায় দলের সঙ্গে থাকা সহকারী কোচ গোলাম শফিউদ্দিন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যই বলতে হবে আমাদের। নইলে কেন এত কাছাকাছি গিয়েও হলো না রবিউলের? শুটিং শুরুর আগে প্রত্যেককে চাপ নিতে নিষেধ করেছিলাম। মাঝে এক সিরিজ বাজে খেলেও দারুণভাবে ফিরে এসেছিল সে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারল না।’

ছেলেদের ১০ মিটার রাইফেলে খেলা অপর দুই শুটার জিদান হোসেন ৬২৫.৪ স্কোরে হয়েছেন ৫৫ জনের মধ্যে ২১তম। আর অর্ণব শারার ৬২৩.৩ স্কোরে হন ৩২তম। মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে হতাশা উপহার দিয়েছেন মেয়েরা। শায়রা আরেফিন ৬২৬.৮ স্কোর গড়ে ৬২ জনের মধ্যে হয়েছেন ১৮তম। জাফিরা খানম ৬২৫.১ স্কোরে ২৭তম এবং কামরুন্নাহার কলি ৩৪তম হন ৬২৪ স্কোরে।