নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কমিউনিটি ল্যাট্রিন প্রকল্পটি ৭ বছর অতিবাহিত হলেও ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠেনি এখনও। জনস্বার্থে নির্মিত হলেও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সঠিক নিয়ম-নীতি না থাকায় সরকারের ৪ লাখ টাকার পুরোটাই গেছে জলে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় (তৃতীয় পর্যায়ে) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আলাদা দুটি কমিউনিট ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ আসে প্রায় ৮ লাখ টাকা। একটি নির্মিত হয় উপজেলার দয়ারামপুর বাজারে, অপরটি ইউএনও পার্কে। ২০১৭ সালে এই কমিউনিটি ল্যাট্রিন দুটির নির্মাণ কাজও সম্পন্ন হয়। কিন্তু ইউএনও পার্ক সংলগ্ন ল্যাট্রিনটি অব্যবহৃতই পড়ে রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পুরাতন ইউএনও পার্ক সংলগ্ন কমিউনিটি ল্যাট্রিনটি দুই কক্ষ বিশিষ্ট। এর দরজা দুটির ২টিই খোলা। খোলা দরজাগুলির ভেতরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অধিকাংশ চুরি ও নষ্ট হয়ে গেছে। ল্যাট্রিনটির পেছনে সেপটি ট্যাংকি দিয়ে বাসানো হয়েছে একটি সাবমারসিবল পাম্প, তাতে কখনও ওঠেনি এক ফোটা পানি। ছাদের ওপর পানির ট্যাংকিটি জরাজীর্ণ। ল্যাট্রিনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা থাকলেও একদিনের জন্যও দেওয়া হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে অযত্ন-অবহেলায় চুরি হয়ে গেছে বিদ্যুতিক সরঞ্জামাদি।
ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে তৎকালীন ইউএনও খন্দকার ফরহাদ আহমদ এই পার্কটি গড়ে তোলেন। সে সময় পার্কটি পুরো এলাকা জুড়েই বিভিন্ন অবকাঠামো ও ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। এরপর জনস্বার্থে জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় দুই কক্ষ বিশিষ্ট কমিউনিটি ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর ২০১৯ সালে যোগদান করেন ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পাল। তিনি এ পার্কটি নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। হাবিবুর রহমান পলাশ নামের এক ব্যক্তি পার্কের সঙ্গে অংশীদারিত্ব নেন এবং আলাদা স্থানে নতুনরূপে পার্কটির একটি অংশে প্রাচীরবেষ্টিত সংরক্ষিত স্থানে পার্কের কার্যক্রম স্থানান্তরিত করেন। ফলে বাকি অংশটুকু অবহলায় নষ্ট হতে থাকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউএনও পার্ক সাইনবোর্ড নামধারী দোকানি মালিক সাইদুল ইসলাম প্রাং (৪৫) বলেন, নদীর তীর ঘেঁষে পার্কটি হওয়ায় এখানে প্রচুর লোকজন ঘুরতে আসে। এখানে বিভিন্ন ভাস্কর্য ছিল। বিশ্রাম নেওয়া ও পার্কের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য একটি বিশ্রামাগার এখানেই এখনও আছে। সেই সময় এই ল্যাট্রিনটিও নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু একদিও চালু করা হয়নি। লোকজন ঘুরতে এসে পড়ে বিড়ম্বনায়। তাই জনস্বার্থে ল্যাট্রিনটি চালুর করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ল্যাট্রিনটি অনেক আগে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে যেটুকু জানতে পেরেছি সেই সময় উপজেলা প্রশাসন ও পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক জনস্বার্থে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাইমেনা শারমীন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত না। বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং জনস্বার্থে সেটি চালু করার ব্যবস্থা করা হবে।