হাত কাঁপা হলো হাতের কবজি, আঙুল, বুড়ো আঙুলের পেশিগুলোর অনৈচ্ছিক নড়াচড়া। যাকে কম্পমান হাতও বলা হয়। এ ধরনের সমস্যা বয়স্ক মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়। হাত কাঁপা সমস্যা হলে প্রতিদিনকার কাজকর্ম করতে সমস্যা হয়। যদিও এটা প্রাণঘাতী কোনো রোগ না, মস্তিষ্কের কোষের নিষ্ক্রিয়তায় কারণে এমন সমস্যা হয়।
লক্ষণ : শুরুতে হাত কাঁপা এক হাতে শুরু হয়। যেটা পরবর্তী সময় অন্য হাতে ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে দুটো হাতই কাঁপতে থাকে। হাতের নড়াচড়ার সঙ্গে কাঁপুনি বৃদ্ধি পেতে থাকে। মানসিক চাপ, ক্লান্তি, উত্তেজক পদার্থের ব্যবহার এসব কারণে কাঁপুনি বৃদ্ধি পায়। কাঁপুনির কারণে কাপড় পরা, গ্লাস বা কাপ ধরা, খাওয়া বা দাড়ি কামানো।
কারণ : হাত কাঁপা সাধারণত স্নায়ুতন্ত্রের রোগ বা পার্কিন্সন রোগের কারণে হয়। জিন পরিবর্তের কারণে হতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য কারণ হলো হাইপারথাইরয়েডিজম, মাল্টিপল স্কলেরোসিস, ডায়স্টেনিয়া, বেশি বয়স, পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি ও স্ট্রোক। এতে শরীরে কম্পন সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত চা কিংবা অ্যালকোহল পানেও একই সমস্যা হতে পারে। অনেক ধরনের ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলেও হাত কাঁপে। শরীরের নার্ভ পদ্ধতি ঠিক রাখতে ভিটামিন ১২ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে এ ভিটামিনের ঘাটতি হলে হাত কাঁপা সমস্যা হতে পারে।
রোগ নির্ণয় : কারণ হাত কাঁপার ইতিহাস না জানলে চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় রক্ত পরীক্ষা সিবিসি, ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা পরীক্ষা, মাথার সিটি স্ক্যান করা হয়।
চিকিৎসা : দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। কিন্তু ঘুম ভালো না হলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়। কাজ করতেও অনেকে চাপ অনুভব করেন। এতে শরীর কার্যক্ষমতা হারায়। পাশাপাশি হাত কাঁপা সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসার মাধ্যমে উপসর্গ কমিয়ে রাখা যায়।
ওষুধ : হিসাবে বিটাব্লকারস যেমন প্রোপ্রোনোলোল ও প্রিমিডোন, অ্যান্টি সিজার ওষুধ, বোটোক্স এবং দুশ্চিন্তা কমানোর ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। যা কাঁপুনির তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।
অস্ত্রোপচার : মস্তিষ্কের গভীর উত্তেজনা এবং থ্যালামোটমি কাঁপুনি কমাতে সাহায্য করে।
ফিজিওথেরাপি : ভর ব্যবহার করা, কবজিতে স্ট্র্যাপ পরা এবং চাপমুক্ত বলের ব্যায়ামও কাঁপুনির তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।
প্রতিকার : অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি যেহেতু বংশগত, কাজেই কোনো প্রতিকার নেই। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশ পেলে সে অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগীকে অবশ্যই মদ্যপান, ধূমপান, অতিরিক্ত চা বা কফি পান ত্যাগ করতে হবে। নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের অভ্যাস করতে হবে। কিছু ওষুধ এ ক্ষেত্রে কাজ দিয়ে থাকে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।