পশু চিকিৎসায় অনুমোদনহীন দুই শতাধিক চিকিৎসক

পশু চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় পরিবারের একমাত্র সম্বল ৭০ হাজার টাকা মূল্যের গাভীর মৃত্যুতে দিশেহারা পার্বতীপুরের দরিদ্র কৃষক আশরাফুল ইসলাম (৪০)। গত শনিবার সকালে উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের ঢাকুলা সামিজনের বাজার এলাকার ওই কৃষকের অসুস্থ গাভীকে স্থানীয় পশু চিকিৎসক মহিবুল ইসলাম ইনজেকশন দিলে আধা ঘণ্টার মধ্যে গাভীটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারে কান্নার রোল পড়ে যায়। অভিযুক্ত পশু চিকিৎসকের বিচার চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আজ রবিবার বিকেল ৫টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল কুমারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।  

কৃষক আশরাফুল ইসলাম জানান, ৩ মাস আগে ৭০ হাজার টাকায় তিনি গাভীটি ক্রয় করেন। ক্রয়ের পরপরই গাভীটি গর্ভ ধারণ করায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। নিবিড় পরিচর্যায় থাকা পরিবারের সবার কাছে প্রিয় গাভীটি গত শনিবার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে অসুস্থ মনে হলে তিনি পার্শ্ববর্তী চন্ডিপুর ইউনিয়নের কাটামারি গ্রামের পশু চিকিৎসক মহিবুলের কাছে যান।

ওই চিকিৎসক বেলা ১১টা দিকে এসে বলেন, গাভীটির দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট কম রয়েছে। এতে তিনি তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য ইনজেকশন পুশ করেন এবং ২৫ গ্রাম ববি ফাস্ট পাউডার খাওয়ানোর ব্যবস্থাপত্র দেন। ইনজেকশন দেয়ার আধাঘণ্টার মধ্যেই গাভীটি মাটিতে ঢলে পড়ে সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়।

ভুল চিকিৎসায় গাভী মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে অভিযুক্ত পশু চিকিৎসক মহিবুল ইসলাম দাবি, তিনি কোনো ভুল চিকিৎসা দেননি, বরং দেহের তাপমাত্রা বাড়াতে ভিটামিন-এ ডি ই ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ইনজেকশন পুশ করেছেন।

প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান বলেন, পার্বতীপুর উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী বেসরকারি পশু চিকিৎসক রয়েছে। তবে, এ কাজে তাদের কারো উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই।