১৬ বছর আগে নারী খুন, দুই আসামির যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামে ১৬ বছর আগে সংঘটিত এক নারী খুনের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক জসিম উদ্দিন এ রায় দেন। একই রায়ে খুনের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জামাল উদ্দিন নামের এক আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

২০০৭ সালের ৪ মে সন্ধ্যায় নগরের হালিশহর 'এ' ব্লক পানির টাংকি এলাকার একটি খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিউলি আক্তার নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতকে জানায়, বাসা ভাড়া নিয়ে ঝগড়ার জের ধরে খালার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তারা।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মগধারা গ্রামের আমীর হোসেনের ছেলে আজিজুর রহমান ওরফে বিপ্লব এবং কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি গ্রামের বরইতল এলাকার ফজর আলীর ছেলে আনসার আলী। খালাস পাওয়া জামাল উদ্দিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগড়িয়া এলাকার আহমেদ কবীরের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এই আদালতের বেঞ্চ সহকারী নেছার আহমেদ জানান, ২০০৭ সালের ৪ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানাধীন 'এ' ব্লকের পানির টাংকি এলাকার একটি খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিউলি আক্তার নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরেরদিন হালিশহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ভিকটিম শিউলির মামা সাহাব উদ্দিন। এতে আজিজুর রহমান ও অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়। শিউলির লাশ উদ্ধারের দুইদিন পর আসামি আজিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে আদালতের আদেশে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিউলি হত্যাকাণ্ডে জড়িত মর্মে আনসার আলী ও জামাল উদ্দিন নাম প্রকাশ করে। পরে এই দুজনকেও গ্রেপ্তার করে জেলহাজত পাঠায় পুলিশ।

আদালতে ১৬৪  ধারার জবানবন্দিতে আজিজুর রহমান জানান, ভিকটিম শিউলির স্বামী মিজানুর রহমান পেশায় রাজমিস্ত্রী। তাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানাধীন রামেশ্বর গ্রামে। শিউলি আক্তার স্বামীকে নিয়ে হালিশহর থানাধীন 'এ' ব্লকের ১ নম্বর রোডের ১ লেনের ভবনের চারতলায় ভাড়ায় থাকতেন। ওই ভবনের কেয়ারটেকার ছিলেন আজিজুর। বাসা ভাড়া নিয়ে ঝগড়ার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শিউলি আক্তারকে পাহাড়তলী থানায় অবস্থিত খালার বাসা থেকে ডেকে এনে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ বস্তাবন্দি করে খালে ফেলে দেওয়া হয়।

আদালত সুত্র জানায়, মামলার তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এজাহাভুক্ত আসামি আজিজুর রহমান এবং তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আনসার আলী ও জামাল উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হালিশহর থানার উপপরিদর্শক আবুল কাসেম। ২০০৯ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের ১১ জনের সাক্ষ্য শেষে আজ সোমবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।