সাগাইংয়ে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে ‘টাইগার ওগ্রেস’

মিয়ানমারের দক্ষিণ-পূর্ব সাগাইং অঞ্চলে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে ‘টাইগার ওগ্রেস’ নামে দেশটির সামরিক জান্তার একটি অংশ। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব সাগাইং অঞ্চলে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে টাইগার ওগ্রেসের সদস্যরা। এ কারণে তিনটি টাউনশিপের গ্রামের বাসিন্দাদের পালিয়ে যেতে বলেছে স্থানীয় কর্মকর্তারা।

ইয়ে-ইউ শহরে জান্তা সেনা এবং জান্তা-পন্থী পিউ সো হেটি মিলিশিয়ার সদস্য রয়েছে। গত শুক্রবার তারা খিন-ইউ টাউনশিপের তিনটি পৃথক গ্রামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং আরও তিনজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে।

খিন-ইউ টাউনশিপের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সোমবার যখন টাইগার ওগ্রেস নিকটবর্তী ইয়ে-ইউ টাউনশিপের গ্রামে অভিযান শুরু করে, তখন হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

গত শুক্রবার তারা মাইন কেয়া গ্রামের দুই প্রবীণ বাসিন্দা এবং কার সেট গ্রামের ৪৪ বছর বয়সী এক বাসিন্দাকে হত্যা করে। কিয়ুন তাও গি গ্রামে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যা করা হয়। গ্রামের একজন প্রবীণ বাসিন্দার পায়েও গুলি করে। এছাড়াও গ্রামটি ছেড়ে যাওয়ার আগে ১০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয় তারা।

স্থানীয়দের বরাতে ইরাবতী জানায়, খিন-ইউ টাউনশিপের প্রায় ৮ হাজার বাসিন্দা টাইগার ওগ্রেসের অভিযানের পর তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। অপরদিকে ইয়ে-ইউ টাউনশিপের পিপলস ডিফেন্স কমরেডস গ্রুপের মতে, টাউনশিপের নয়টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। এছাড়াও মঙ্গলবার তারা অং থা গ্রাম লুট করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। 

পিপলস ডিফেন্স কমরেডদের একজন মুখপাত্র বলেন, টাইগার ওগ্রেস গত সপ্তাহে খিন-ইউ টাউনশিপে চারজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে, তাই আমি গ্রামবাসীদের বলেছি তারা যেন পালিয়ে যায়।