শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারকে ২০২১ সালে উৎখাত করার পর থেকে তিনি দেশটির শাসনক্ষমতায় আছেন। এবার তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ৬৯বছর বয়সী জেনারেল মিন অং হ্লাইং। অথচ ভোটের ব্যালটে তাঁর নাম ছিল না এমনকি নির্বাচনী প্রচারের পোস্টারেও কোনো ছবি ছিল না। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন সেনাপ্রধান। অবশেষে তিনিই হলেন দেশের প্রেসিডেন্ট। যদিও জাতিসংঘ ও পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ছিল না।
হ্লাইং জান্তাপ্রধান থেকে এখন এমন একটি প্রশাসনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, যেটিকে দেখলে বেসামরিক প্রশাসনের মতো মনে হয়। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ক্ষমতাসীন জেনারেলকে যেন ক্ষমতায় ধরে রাখা যায়, সে কথা মাথায় রেখেই নির্বাচন সাজানো হয়েছে।
জানা যায় গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে মিয়ানমারে কয়েক ধাপে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশটির বড় বিরোধী দলগুলো অংশ নিতে পারেনি। সু চির দল বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং অন্য প্রধান প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে সেনাপ্রধান-সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি জয়লাভ করেছে।
মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গৃহযুদ্ধ চলার মধ্যে অত্যন্ত সাবধানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়। গৃহযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলো বিদ্রোহীদের দখলে চলে গেছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের অনেক আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কেবল সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগ রেখেছেন।
রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত নয়-এমন গণমাধ্যমের সঙ্গে তিনি তেমন একটা কথা বলেন না। হ্লাইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এবং জান্তা রাজনীতিবিষয়ক দুই বিশ্লেষকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে রয়টার্স। তাঁরা বলেছেন, মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট শুধু একজন কঠোর সেনাপ্রধানই নন, তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও দক্ষ। তিনি দেশের ক্ষমতাধর শ্রেণিকে পরিচালনার সূক্ষ্ম কৌশল জানেন। আর এসব বৈশিষ্ট্য তাঁকে ক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে গত সোমবার মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী ও সাবেক সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান ইয়ে উয়িন উ–কে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেন। সেনাবাহিনীর প্রণীত সংবিধানের আওতায় প্রেসিডেন্টের ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা থাকলেও সেনাবাহিনীর ওপর সরাসরি কর্তৃত্ব নেই। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, হ্লাইংয়ের উত্তরসূরি আপাতত তাঁকে শক্ত হাতে ক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করবেন।
