শিল্পের মাধ্যমে সমাজকে প্রশ্ন ছুড়ে দিতে চাই

আশনা হাবিব ভাবনা অভিনয়শিল্পী হিসেবেই সমাদৃত। টেলিভিশন থেকে বড়পর্দা দুই মাধ্যমেই তিনি পরিচিত। এর বাইরেও তার শিল্পের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ রয়েছে। তিনি নাচেন, ছবি আঁকেন, কবিতা লেখেন, লেখেন উপন্যাস। এসব বিষয় নিয়েই ভাবনার সঙ্গে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন

ভাবনাকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে মানুষ চেনে, এর বাইরে আপনি একজন কবি ও লেখক এই পরিচয়কে আপনি কীভাবে বিশ্লেষণ করেন?

আমি শিল্পের সঙ্গে থাকতে চাই, শিল্পের চর্চা করতে চাই, এমনকি শিল্পের যত মাধ্যম আছে বিচরণ করতে চাই। এটাই আমার জীবনের লক্ষ্য। আমি অভিনয়শিল্পী হিসেবে মানুষের কাছে সমাদৃত। মানুষ আমাকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে পছন্দ করে। তারপর তারা আমার পাঠক বা ছবি আঁকার ভক্ত। আমি বিশ্বাস করি একটা মানুষ চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে।

আপনি একজন চিত্রশিল্পী ও আপনার ছবি আঁকা নিয়ে বলুন...

ছবি আঁকতে আমার ভালো লাগে। শিগগির আমি আমার ছবির প্রথম প্রদর্শনী করতে যাচ্ছি। আমি সরাসরি যে কথাটা বলতে পারি না, সেটা আমার আঁকা কিংবা উপন্যাস ও কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারি।

নতুন উপন্যাস প্রকাশ হতে যাচ্ছে, এই উপন্যাসের নাম কাজের মেয়ে কেন?

কাজের মেয়ে উপন্যাস আমি লিখছি, লেখা চলছে। আমার প্রত্যেকটা উপন্যাসে একটা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটাই এবং এই প্রশ্ন সমাজের উদ্দেশে ছুড়ে দিতে চাই। কাজের মেয়ে নামটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল, প্রকাশকরা বারবার এটা নাম পরিবর্তন করতে বলেছিলেন। কাজের মেয়ে শব্দ নিয়ে মানুষের যে আপত্তি, এটাই আমার প্রতিবাদ। কাজের মেয়েকে যেভাবে আমরা উপেক্ষা করি, এই শব্দটাকে আমরা যেভাবে উপেক্ষা করি, এটাতেই আমার সমস্যা। আমার কাছে কাজের মেয়ে মানে যে সব কাজ করতে পারে। কেন আমরা এটাকে নেতিবাচকভাবে দেখি, এ কারণেই এই নাম আমি ব্যবহার করেছি। এই উপন্যাসে আমি সমাজের বিভিন্ন দিক তুলে আনার চেষ্টা করেছি, এমন না যে কাজের মেয়ের কথা বলা হচ্ছে। যখন পাঠকরা পড়বেন তখন বুঝতে পারবে আমি কী বলতে চাচ্ছি।

পাঠক হিসেবে আপনি কার লেখার ভক্ত?

পাঠক হিসেবে আমি অনেকের ভক্ত। আর শাহাদুজ্জামানের অনেক বড় ভক্ত। তিনি আমার অনেক পছন্দের লেখক, শহীদুল জহির আমার অনেক পছন্দের, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা আমার কাছে অনেক শক্তিশালী মনে হয়, মায়েঞ্জোলের কবিতা যখন আমি পড়ি তখন অনেক শক্তি পাই। এমনকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাও একই রকম। আমি এখন কবিতার সঙ্গে বেশি বসবাস করি। আমার কাছে মনে হয় কবিতা অনেক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।

শৈশবে আপনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, বড় হয়ে কী হবেন?

শৈশব থেকে একেকবার একেক রকম হতে চেয়েছি। তবে মনে হয়েছে আমি শিল্পের সঙ্গেই থাকতে চেয়েছি। মনে হয়েছে আমি ক্লাসিক্যাল ড্যান্সার হব। আবার মনে হয়েছে আমি আমার ম্যামের মতো নাচের টিচার হতে চাই। মনে হয়েছে বাবার মতো নির্মাতা হতে চাই, আবার একসময় মনে হয়েছে আমি শুধু টেলিভিশনে কাজ করতে চাই। তবে এখন মনে হয় আমি শুধু অভিনেতাই হতে চাই, তার সঙ্গে সঙ্গে সব কাজ করতে চাই।

আপনার সম্পর্কের বিষয়ে নানা সময়ে গুঞ্জন ছড়ায়, প্রেম-বিয়ে বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

আমি সম্পর্কের বিষয় নিয়ে সব সময় ক্লিয়ার, একদম স্পষ্ট। প্রেম-বিয়ে নিয়ে আমি আর কিছুই বলতে চাই না। কারণ এসব নিয়ে আমি কথা বললেই এসবই হেডলাইন হয়ে যায়। শিল্পের মানুষ হিসেবে এটা অপমানজনক। আমি কাজ দিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হতে চাই।