সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীদের সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অন্যতম অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। খবর ডয়চে ভেলে।
বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে বিশ্বে গড়ে প্রতি ৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন ধূমপান করেন। যেখানে ২০০০ সালেও প্রতি ৩ জন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে একজন ধূমপান করতেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২২ সালে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ১২৫ কোটি মানুষ ধূমপান করতেন যেখানে ২০০০ সালে ১৩৬ কোটি মানুষ ধূমপানে জড়িত ছিলেন।
হু জানায়, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে জনসংখ্যার বৃদ্ধি সত্ত্বেও ধূমপানকারির সংখ্যা কমে আসবে।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপে ধূমপায়ীদের সংখ্যা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি এবং এই অঞ্চলগুলোতে জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধূমপানে আসক্ত। এছাড়া সমীক্ষা অনুসারে, মিশর, জর্ডান এবং ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশে তামাকের ব্যবহার এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীদের মধ্যে ধূমপান ত্যাগের প্রবণতা বৃদ্ধি পেলেও সমাজ থেকে এ সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনও কাটেনি। কারণ ডব্লিউএইচও’র পর্যবেক্ষণ বলছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীদের ধূমপান ত্যাগের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সাফল্য এখনও আসেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিশ্বব্যাপী ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে গড়ে প্রায় ১০ ভাগ এক বা একাধিক ধরণের তামাক ব্যবহারে আসক্ত। কমপক্ষে ৩ কোটি ৭০ লাখ যুবক-যুবতীর মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ নতুন ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করে থাকে।
ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে যে ধূমপায়ীদের সংখ্যা কমতে থাকলেও ধূমপানজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যায় শিগগির বড় কোনো হ্রাস ঘটার সম্ভাবনা আপাতত নেই। এ প্রসঙ্গে ডব্লিউএইচও’র ভাষ্য, তামাকজনিত মৃত্যুর হারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের জন্য আরও সময় প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ধূমপান ও তামাকজনিত কারণে প্রতি বছর আশি লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। এই মৃতদের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ পরোক্ষ ধূমপায়ী। অর্থাৎ নিজেরা ধূমপান করেন না, কিন্তু ধূমপায়ীদের আশেপাশে থাকার কারণে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগে মারা যান।
মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের মতে, ধূমপানের কারণে ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের রোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) হয়ে থাকে।