পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ৮.৭, স্কুল বন্ধ

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে আবারও তাপমাত্রা নেমেছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শীতের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে পড়েছে জেলার মানুষ, জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। এদিকে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির কম হওয়ায় আজ জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ জামানের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় একই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাপমাত্রা রেকর্ডের তথ্যটি জানান জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগারের তথ্যানুযায়ী, নতুন বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। তার মধ্যে ৩ জানুয়ারি সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। 

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আজও ভোর থেকেই মেঘ-কুয়াশার আবরণে এ প্রান্তিক উপজেলা। কুয়াশা আর হিম বাতাসে ঝরবে বরফ শীত। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা। নিম্ন আয়ের পেশাজীবীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সময় মতো কাজে যেতে না পারায় কমে গেছে দৈনন্দিন কামাই রোজগার। অভাব-অনটনে পড়ে কষ্টে দিন যাপন করছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। শহরের মানুষজন প্রয়োজনের বাইরে ঘর থেকে বের না হলেও জীবিকার তাগিদে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো শীত উপেক্ষা করেই কাজে বেরিয়েছেন। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে অনেককে। 

তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন চাষিরাও। চাষিরা জানাচ্ছেন, ঠান্ডার প্রকোপের কারণে খেতখামারে কাজ করতে পারছেন না। বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। চরম বিপাকে পড়েছে আলু চাষিরা। তীব্র শীতের কারণে ক্ষেতের আলুতে ছত্রাকের আক্রমণ বেড়েছে। পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। অতি মাত্রায় শীতের কারণে গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সমস্যা মোকাবেলা করতে গিয়ে ২-১ দিন অন্তর অন্তর ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক নইমুল হুদা সরকার জানান, তীব্র শীতে যেন কোনো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের সচেতন করছেন। আলু ক্ষেত কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সময়মত ছত্রাকনাশক স্প্রে করায় ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হবে।

এদিকে শীতের কারণে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগ। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর আউটডোরে ঠান্ডাজনিত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে নিরাময় থাকতে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছেন চিকিৎসকরা। অপরদিকে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মানুষ। তীব্র ঠান্ডায় গবাদি পশুরাও বিপাকে পড়েছে। অনেকে চটের বস্তা গায়ে জড়িয়ে দিয়েছেন গবাদি পশুর দেহে।

গবাদিপশু

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন এ জনপদ। ঘন কুয়াশার কারণে গতকালও দেখা মেলেনি সূর্যের। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে যে বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জনপদের সব বয়সী মানুষজন শীত দূর্ভোগে পোহাচ্ছেন। 

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, শীতপ্রবণ জেলা হিসেবে প্রতি বছর পঞ্চগড়ে সরকারি-বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত কম্বল বিতরণ করা হয়। এবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। তবে এবারে শীতের শুরুতে নির্বাচনকালীন হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ উপজেলার ইউএনও এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রাপ্ত শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া বেসরকারিভাবেও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যন্ত এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারিভাবে আরও কম্বলের চাহিদা রয়েছে। এজন্য আরও শীতবস্ত্র চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। নতুন করে কম্বল বা শীতবস্ত্র পাওয়া গেলে দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।