পাটুরিয়া ঘাটের পশ্চিমে ডুবে থাকা ইউটিলিটি ফেরি রজনীগন্ধা তৃতীয় দিনে উদ্ধারের কাজ শুরু হয়নি। গত বুধবার উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মাত্র একটি ট্রাক উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ও হামজা মিলে ডুবে যাওয়া ৯টি মালবাহী ট্রাকের মধ্যে ৩টি ট্রাক উদ্ধার করেছে।
বুধবার রাত থেকে উদ্ধারকার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে ঘাট কর্তৃপক্ষ। আজ শুক্রবার ১১টার মধ্যে এখনও ফেরি উদ্ধারকার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। তবে, উদ্ধারকারী জাহাজ 'প্রত্যয়' আসলে উদ্ধারকাজ শুরু করবে বলে বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে। এনিয়ে প্রায় ৩৬ ঘণ্টায় ফেরিতে থাকা ৯টির মধ্যে ৩টি ট্রাক উদ্ধার হলো।
সবশেষ উদ্ধারকৃত ট্রাকে (নম্বর কুষ্টিয়া ট-১১-২৬৩৩) কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় কার্পাস তুলা ছিল। নারায়ণগঞ্জ থেকে রওয়ানা দেওয়া অপর উদ্ধার জাহাজ 'প্রত্যয়' বুধবার রাত ১০টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ঘন কুয়াশার কারণে শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। 'প্রত্যয়' পৌঁছানোর পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করবে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে দৌলতদিয়া থেকে ৯টি ট্রাক ও যাত্রী নিয়ে রজনীগন্ধা ফেরি ঘন কুয়াশায় পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটের আধাকিলোমিটার পশ্চিমে পদ্মায় নোঙর করা অবস্থায় তলা ফেটে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ফেরির সহকারী চালক হুমায়ুন কবির নিখোঁজ রয়েছেন।
ফেরিটি উদ্ধারে বুধবার দুপুর থেকে কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। তবে ডুবে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধারের সক্ষমতা নেই 'হামজা' বা 'রুস্তম'-এর। কারণ ফেরিটির ওজন ২৫০ টনের বেশি।
বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মো. শাহ জাহান জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তমের সক্ষমতা প্রতিটির ৬০ টন করে। নারায়নগঞ্জ থেকে রওনা হওয়া প্রত্যয়ের সক্ষমত ২৫০ টন। সেক্ষেত্রে তিন জাহাজ একত্রে চেষ্টা করলে ডুবে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধার করা সম্ভব। তবে তারা ঘটনাস্থলে ডুবে যাওয়া ট্রাক উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে।
বিআইডব্লিটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, নদীতে ঘন কুয়াশ থাকায় উদ্ধারকারী জাহাজগুলো ঘটনাস্থলে আসতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় খুব শিগগিরই ফেরি উদ্ধারে যোগ দেবে। প্রত্যয়ের মাধ্যমে ফেরি উদ্ধার সম্ভব না হলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।