চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দুর্দান্ত ঢাকার দুর্দান্ত শুরু

সকালের সূর্যোদয় সারাদিনের পূর্বাভাস দিয়ে যায়। আজ সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ ছিল রৌদ্রজ্জ্বল। আর বিকেল গড়াতেই মিরপুরের আকাশে শরিফুল ইসলাম ছড়ান অন্যরকম উত্তাপ। শুধু তার হ্যাটট্রিকেই যেন ঢাকার প্রাপ্তি দেখছিলেন অনেকে। কিন্তু চিত্রনাট্যের মূল দু্ই কারিগর লিখে রেখেছিলেন অন্যকিছু। ব্যাটিংয়ে নেমে নাঈম শেখ আর দানুশকা গুনাথিলাকা মিলে উদ্বোধনীতে গড়েন শতরানের জুটি। তাতে ভর করেই বড় ব্যবধানে দুর্দান্ত এক জয়ের পথেই ছুটছিল ঢাকা। কিন্তু কুমিল্লা ঘুরে দাঁড়াতেই জমে উঠেছিল। সহজ ম্যাচ শেষ পর্যন্ত কঠিন করে রুদ্ধশ্বাস এক জয় পান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতরা।

শেষ ওভারের তৃতীয় বলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছক্কা মেরে জয় তুলে নেন চতুরাঙ্গা ডি সিলভা। শুরুতে ১০ উইকেটে জয়ের আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ৫ উইকেটের জয় দিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করলো তারা।

১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলছিলেন নাঈম শেখ ও দানুশকা গুনাথিলাকা। তাদের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ১০১ রান। নাঈম তুলে নেন স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারের অষ্টম ফিফটিটি। ৪০ বলে ৫২ রান করে তিনি ফিরে যেতেই যেন নামে ব্যাটিং ধস।

সেই ধস সামলাতে গিয়ে যেন সবাই হিমশিম খাচ্ছিলেন। তার বিদায়ের পর আরেক সেট ব্যাটসম্যান গুনাথিলাকাও ৪২ বলে ৪১ রান করে ফিরে যান। তাতে ম্যাচ হয়ে পড়ে কঠিন। তবে এমন দিনে আবার বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তাক লাগিয়ে দেন ইরফান শুক্কুর। ১৬ বলে তার ২৪ রানের ছোটো কিন্তু কার্যকরী ইনিংসটি ম্যাচ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। যদিও ব্যর্থ হয়েছেন লাসিথ ক্রসপুলি ও সাইফ হাসান। তবে ডি সিলভা শেষ ওভারে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন।

এর আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হারায় অধিনায়ক লিটন দাসের উইকেট। তবে ইমরুল কায়েস ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায়। আভাস মিলছিল ১৫০+ সংগ্রহের। কিন্তু শেষ ওভারে শরিফুল ইসলাম হ্যাটট্রিক তুলে নিয়ে ১৪৩ রানে থামিয়ে দেন তাদের। তাতে জয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি।