পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দুই দিনব্যাপী আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া সম্পন্ন করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার ইরান সীমান্তে পাকিস্তান হামলা চালানোর দিন এই মহড়া শুরু করে দেশটি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) তারা বলেছে, শত্রুপক্ষের নিশানা ব্যাহত করতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে মহড়া চালিয়েছে ইরান।
ইরানের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভিকে জানায়, ইরানের বাহিনীগুলো সফলভাবে একটি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। যেখানে শত্রুপক্ষের টার্গেট রুখে দেওয়া এবং সেটা নিশানা করার জন্য ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দুই দিনের এই মহড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আবাদান থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ-পূর্বের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের চাহবাহার পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে।
জানা গেছে, ‘গার্ডিয়ান্স অব বেলায়াত স্কাই ১৪০২’ নামের এ মহড়ায় ইরানের সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোর পাশাপাশি ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স, বিমান বাহিনী এবং আরও কয়েকটি সংশ্লিষ্ট ইউনিট অংশ নিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানভিত্তিক সুন্নি সশস্ত্র গোষ্ঠী জাইশ আল-আদলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এ হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় পরদিন ইরান থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামাবাদ।
একইসঙ্গে ইসলামাবাদে নিযুক্ত তেহরানের রাষ্ট্রদূতকেও বহিষ্কার করে দেশটি। অপরদিকে হামলার ৪৮ ঘণ্টা পর সকালে ইরানে আক্রমণ করে পাকিস্তান। তাতে চার শিশুসহ ৯ জন নিহত হয় বলে জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমদ ওয়াহিদী।
পাল্টাপাল্টি এসব হামলা ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দুই দেশের একে অপরের সীমান্তে ঢুকে সামরিক হামলার সবচেয়ে বড় ঘটনা। পাশাপাশি পাকিস্তান ছাড়াও সিরিয়া এবং ইরাকে হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্য দিয়ে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছে তা সীমানা ছাপিয়ে অন্য এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।