১৯ তম ন্যাম সম্মেলন

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা , আন্তর্জাতিক আদালতে মামলায় সমর্থন

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) ১৯ তম শীর্ষ সম্মেলন উগান্ডায় শুরু হয়েছে। সম্মেলনের শুরুতেই গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে ১২০ দেশের এই ব্লক। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

শুক্রবার উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় শুরু হওয়া ন্যাম সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে কিউবার ভাইস প্রেসিডেন্ট সালভাদর ভালদেজ মেসা কড়া ভাষায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে পশ্চিমা সমর্থনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘৭ অক্টোবর থেকে সাম্প্রতিক ইতিহাসে নৃশংসতম গণহত্যা দেখছি আমরা। নিজেদের সভ্য দাবি করা পশ্চিমাদেশগুলো কিভাবে গাজায় নারী-শিশুদের হত্যার সাফাই গায়, কিভাবে হাসপাতাল, স্কুলে বোমা হামলা, খাবার-পানি বন্ধ করে দেওয়া সমর্থন করে?’

সম্মেলনের প্রথম সেশনে আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের প্রধান মওসা ফাকি মাহামাত ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলিদের চালানো ‘অন্যায় আগ্রাসন’ বন্ধ করতে অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। 

এবারের ন্যাম সম্মেলনকে ‘সংহতির সম্মেলন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি দূত রিয়াদ মানসুর।

কাম্পালার সম্মেলন কেন্দ্র থেকে আল জাজিরার ক্যাথেরিন সোই জানান, জাতিসংঘের সংস্কার এবং গাজা যুদ্ধ এবারের ন্যাম সম্মেলনে মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর শীর্ষে আছে। ইতিমধ্যে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় নির্বিঘ্নে ত্রাণ পৌঁছাতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে করা দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ন্যাম সদস্যরা।

সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, ‘গাজা পরিস্থিতি আবারও জাতিসংঘের সক্ষমতা যে কতটা অপর্যাপ্ত তা দেখিয়ে দিল, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপই নেওয়া যায়নি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বৈশ্বিক সুশাসনের এমন একটি ব্যবস্থা দাঁড় করাতে চাই, যেটা হবে ন্যায্য ও বৈষম্যহীন, যা মানুষের বিপদে-হুমকিতে পড়া মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে।’

গতবছর ৭ অক্টোবর গাজায় নির্বিচারে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার কর্মী, সাংবাদিকরাও, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। গাজায় ইসরায়েলি এই আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিমারা ছাড়া এতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সিংহভাগই সমর্থন জানিয়েছে।