বিয়ের পর প্রথম বিপিএল! কেমন অনুভূতি হচ্ছে? প্রশ্নটা শুনেই হাসিতে ফেটে পড়লেন ইয়াসির আলি চৌধুরী রাব্বি। চাহনীটাই ছিল এমন যে, এ কেমন প্রশ্ন? জববা সিলেট স্ট্রাইকার্স ব্যাটসম্যান বললেন, ‘এটার কি উত্তর কি দেব আসলে জানি না।’ তারপর আবারও স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই একটা হাসি দিলেন তিনি।
হাসি-ঠাট্টার পর অবশ্য পরিপক্কতার স্বাক্ষর রেখেই একটা জবাব দিলেন। বলেন, ‘আসলে এখন দায়িত্ব বেড়েছে। এটা মাঠের বাইরে, ঘরের রেসপনসিবিলিটি। আমি আশা করি যার মধ্য দিয়ে আমি মাঠের ভেতরেও দায়িত্বশীল একজন হয়ে উঠব।’
মিরপুরের একাডেমি মাঠে দলের অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমন রসিকতায় মেতে উঠেছিলেন ইয়াসির। আগামীকাল আবার বিপিএলে তাদের ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে হারের পর নিজেদের ভুলগুলো নিয়ে আজ অনুশীলনে ঘাম ঝড়িয়েছেন তারা। পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ রংপুর। আসরের অন্যতম ফেবারিট দল।
তবে ইয়াসিরের মতে প্রতিটা দলই শক্তিশালি, ‘এবারের বিপিএলে প্রত্যেকটা দলই শক্তিশালি। আসলে মাঠে যে ভুল কম করে ভালো খেলবে তারাই জিতবে। আমাদের দলের লক্ষ্য থাকবে সেটাই। দলের ক্রিকেটাররাও ফর্মে আছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে স্বভাবসুলভ ক্রিকেট খেলে ভালো সংগ্রহ গড়ে দেওয়া। বাকিটা বোলাররা সামলে নেবে।’
রংপুরের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসান। তবে প্রথম ম্যাচ শেষে টুর্নামেন্টে অনিশ্চিত হয়ে গেছেন তিনি। চোখের সমস্যা দেখা দেওয়া চিকিৎসা করাতে গেছেন সিঙ্গাপুরে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যদি অনুমতি মিলে, তবেই ফিরে আসবেন মাঠে। সিলেট স্ট্রাইকার্সের এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এটাকে দেখছেন টুর্নামেন্টের সব দলের সুযোগ হিসেবে। তবে সাকিবের জায়গায় যিনি খেলতে নামবেন, তাকেও সমীহ করতে ভুলেননি তিনি।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘এটা প্রত্যেকটা দলের জন্যই সুযোগ। সাকিব আল হাসানের মতো একজন ক্রিকেটার মাঠে প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের নাম। তবে যে কেউ যেকোনো দিন ভালো খেলতে পারে। কোনো ক্রিকেটারই ছোটো না। প্রত্যেকে ভালো খেলোয়াড় বলেই তারা বিপিএলে খেলছে। সাকিব ভাই না থাকাটা সুবিধার। তবে বাকিদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইয়াসিরের অভিষেক হয়েছে ২০২২ সালের মার্চে। এখন পর্যন্ত ১১ ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমেছেন। যার মধ্যে দুই অংকের স্কোর গড়তে পেরেছেন মাত্র তিনবার। সর্বোচ্চ ৪২ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন। আন্তর্জাতিকে শেষবার দেখা গিয়েছিল এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেটা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের স্বীকৃতি পেলেও মূলত ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল। সেখানে ৩৪ রান করেছিলেন।
তবে জাতীয় দলের হয়ে এখনও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি এই ব্যাটসম্যান। সামনে যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তখন বিপিএল তার সামনে সেরা সুযোগ নিজেকে প্রমাণের। আর তার দলটা সিলেট বলে আরও বেশি। কারণ এই দলটার হয়ে খেলেই নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয় গত আসরে ভালো খেলে এসেছিলেন আলোচনায়। ধারাবাহিক আছেন জাতীয় দলেও। এবার কি তবে ইয়াসিরও…
তবে নিজে অবশ্য এভাবে ভাবছেন না, ‘দেখুন গতবার যা হয়েছে এবার সেটা নাও হতে পারে। আবার ভালো কিছুও হয়ে যেতে পারে। আমার দায়িত্ব প্রসেস ঠিক রেখে প্রতিটা ম্যাচে সেরাটা দেওয়ার। ভালো করলে যদি জাতীয় দলে সুযোগ আসে তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ। আমি করছি ভালো কিছুই হবে।’