বৃদ্ধাশ্রম ও ইসলাম

মানবতার ধর্ম ইসলাম যে জিনিসগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করতে বলেছে, যেগুলো থেকে দূরে থাকতে বলেছে, যে বিধিবিধানগুলো দিয়েছে- সেগুলো যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। মানুষের কুপ্রবৃত্তি দমনের জন্য সমস্যার গোড়ায় হাত দিতে হবে। মানুষকে সৃষ্টিকর্তা দয়াময় আল্লাহতায়ালার কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে। স্রষ্টার নির্দেশনা মানা, তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার দিকে নিতে হবে। তার মধ্যে আল্লাহভীতি জাগ্রত করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

দুনিয়ার বুকে মানুষকে সর্বদা মনে রাখতে হবে, মানবিকতা টিকিয়ে রাখার জন্য যে স্বার্থপরতা কমাতে হয়- সেটা শিখতে হবে। আমাদের সেসব শিক্ষার কাছে যেতে হবে। কিন্তু আমরা উল্টোপথে হাঁটছি। ফলে সমাজ হয়ে উঠছে উত্তপ্ত ও সংঘাতময়, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

একটি উদাহরণ দিই। আমাদের দেশের অনেক পত্রিকা বৃদ্ধাশ্রমের প্রশংসা করে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আমাদের মতো ৯১ শতাংশ মুসলমানের দেশে বৃদ্ধাশ্রমকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, অথচ কোরআন মাজিদে সবচেয়ে বড় গোনাহ শিরক থেকে বেঁচে থাকার জন্য বলা হয়েছে; তার পরই বলা হয়েছে- মা-বাবার সঙ্গে দয়াপূর্ণ আচরণ করো। এভাবে একাধিকবার এসেছে। এখানে আয়াতটি প্রাসঙ্গিক। সুরা বনি ইসরাইলে বৃদ্ধ বয়সের কথা বলা হয়েছে। এখনকার বৃদ্ধাশ্রমের লোকদের কথাই বলা হয়েছে সে আয়াতের মধ্যে, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত কোরো না, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, পিতা-মাতার কোনো একজন কিংবা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদের ‘উফ্’ পর্যন্ত বলো না এবং তাদের ধমক দিয়ো না; বরং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।’ -সুরা বনি ইসরাইল : ২৩

বর্ণিত আয়াতে আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে বলছেন, তারা যদি তোমার কাছে বৃদ্ধ হয়ে যান, তাকে তোমরা ‘উফ্’ শব্দটিও বলবে না। কষ্টদায়ক কিছু বলবে না। তাহলে কি যুবক বয়সী মা-বাবাকে ‘উফ্’ বলার সুযোগ আছে? বিষয়টা এমন নয়। আল্লাহতায়ালার উদ্দেশ্য হলো, বয়স হয়ে গেলে মানুষের মেজাজ বিগড়াতে পারে। একটু খিটখিটে হতে পারে। তিনি এমন আচরণ করতে পারেন, যা কিছুটা বিরক্তিকর লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রেও তাদের সঙ্গে সদাচারের প্রতি কোরআন মাজিদে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আর আমরা বয়োজ্যেষ্ঠদের বৃদ্ধাশ্রমে ঠেলে দিচ্ছি। আবার সেই কথা মানুষের মধ্যে প্রচার করা হচ্ছে, বৃদ্ধাশ্রমের পক্ষের গল্প বড় করে দেখা হচ্ছে। এখানে সন্তানরা যে ভয়ংকরভাবে পাপে জড়িয়ে যাচ্ছে, আল্লাহর হুকুম না মানার বিষয়কে ভালো থাকা ভাবছে, এটা কোন মানসিকতা? পুঁজিবাদ ও বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ আমাদের কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

আমাদের এসব ঘটনার পেছনের কারণগুলো বের করতে হবে। আর না হয় এ ধরনের পৈশাচিকতা বাড়বে বৈ কমবে না। বাবা-মা উপার্জন অক্ষম হলেই তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেবে, কয়েকদিন পর ওই সন্তানকে তার সন্তানও সেখানেই পাঠাবে, এমন ধারাবাহিকতা চলতে পারে না। আল্লাহতাআলা সবাইকে ইসলামের শেকড় ধরার তওফিক দান করুন।