শেষ ওভারের রোমাঞ্চে জয় কুমিল্লার

শেষ ওভারে গড়িয়েছে খেলা। ‍কুমিল্লাকে জিততে তখনও প্রয়োজন ১৩ রান। টি-টোয়েন্টির বিচারে আহামরি কিছু না। ফরচুন বরিশালের পেসার খালেদ আহমেদের প্রথম বলেই রান আউট ভিক্টোরিয়ান্স মিডল অর্ডার খুশদিল শাহ। তাতেই গর্জে উঠে পুরো গ্যালারি। তামিম ইকবালের দলের পক্ষে জয়োধ্বনি শুরু করেন অনেকে। তখনও আত্মবিশ্বাসী ইমরুল কায়েসদের সমর্থকরা। শেষ পর্যন্ত তাদের আত্মবিশ্বাসেরই জয় হলো। ১ বল হাতে রেখেই থ্রিলারে ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের শিষ্যরা।

আগের রাতে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ১৮৭ রান করেও জিততে পারেনি বরিশাল। আজ করেছিল ১৬১ রান। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল জিতবে তো? তবে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পেরেছিল তামিম বাহিনী। খুলনার বিপক্ষে বরিশাল অধিনায়ক ছুঁয়েছিলেন ৩ হাজার রানের মাইলফলক। আজ সেটা ছুঁলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দুজনের এই রেকর্ডের দুটি রাতেই হার দেখতে হয়ে কিত্তনখোলা নদী পাড়ের ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে।

১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল কুমিল্লা। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও লিটন দাসের উদ্বোধনী জুটির উড়ন্ত সূচনা মুহূর্তেই যেন বদলে যায় বরিশালের লঙ্কান স্পিনার দুনিথ ওয়েল্লালাগের ঘূর্ণিতে। তিনি এসেই তুলে নেন জোড়া উইকেট। ব্যর্থ হন লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়।

উইকেটের আসা-যাওয়ার মাঝে দাঁড়িয়ে রানের ফোয়ারা ছুটান ইমরুল কায়েস। ৩৯ ফিফটি হাঁকিয়ে ইমরুল কায়েস অবশ্য বিদায় নেন ব্যক্তিগত ৫২ রানে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পেলেন ফিফটির দেখা। আব্বাস আফ্রিদির লাফিয়ে আসা বলে সহজ ক্যাচ দেন কায়েস।
তার বিদায়ের পরই নিভে যেতে বসেছিল কুমিল্লার জয়ের সলতে। তবে খুশদিল শাহ মাঠে নামায় ভক্তরা তবু আশা দেখেছিলেন। তিনি না পারলেও পেরেছেন জাকের আলি অনিক ও ম্যাথু ফোর্ডে। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে দুই নিয়ে, পরের দুই বলে হাঁকান ৬ ও চার। পঞ্চম বলে ১ রান নিয়েই জিতে যান টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম থ্রিলার।