বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই টুর্নামেন্টে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। স্বনামধন্য বিদেশি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বিপিএলে যুক্ত হলে টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে বলে মনে করছেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দেশের ক্রিকেটে দল নেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমান নীতিমালা কতটা উপযোগী, সেটি যাচাই করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে একটি প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, 'বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে আমাদের নীতিমালা যাচাই করতে হবে। আইনজীবীদের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। স্বনামধন্য কোনো বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিপিএলে এলে টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বাড়বে। আমরা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করছি, তাদের কিছুটা আগ্রহও রয়েছে। তবে আগ্রহ প্রকাশ করা আর দল কেনার মধ্যে পার্থক্য আছে। তাই আমাদের বর্তমান নিয়মকানুন ও নীতিমালা বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত করার ক্ষেত্রে কতটা উপযোগী, সেটি আগে যাচাই করতে হবে। বিদেশি কোনো স্বনামধন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি বিপিএলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে টুর্নামেন্টটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিঃসন্দেহে অনেক বাড়বে।'
তামিমের এই কথায় স্পষ্ট যে, বিপিএলকে আগের কাঠামোয় চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে নতুনভাবে সাজাতেই বেশি আগ্রহী বিসিবি। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আর্থিক সক্ষমতা, নিয়ম মানার বাধ্যবাধকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বোর্ড। বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর থেকেই বিপিএলের চলতি বছরের আসর নিয়ে একাধিকবার অনিশ্চয়তার কথা জানান তামিম। এখনো একই অবস্থানে দাড়িয়ে তিনি।
বিপিএলের কাঠামোগত দুর্বলতা ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এনে তামিম বলেন, 'এভাবে বিপিএল করতে চাই না। সমস্যা হলো, কোনো দল সরে গেলে বা নিয়ম মেনে চলতে না পারলে বিসিবিকেই সেই দলের দায়িত্ব নিতে হয়। গত দুই বছরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান করার কথা নয়। তাই যতক্ষণ না আমরা সমস্যাগুলো ঠিক করতে পারছি, লোকসান দিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা গুরুত্বপূর্ণ নয়'
তামিমের পরিকল্পনা, বিপিএলের পরবর্তী আসর হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে। সে কারণে চলতি বছর টুর্নামেন্ট আয়োজন না করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ফ্র্যাঞ্চাইজি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া গুছিয়ে নিতে চায় বোর্ড। বিপিএল নিয়ে বিসিবির এই অবস্থানের পেছনে খেলোয়াড়দের স্বার্থও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তামিম। চলতি বছর এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ না হলে অনেক ক্রিকেটার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এটা স্বীকার করলেও, টুর্নামেন্টের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি।
এনিয়ে তামিম বলেন, 'খেলোয়াড়দের কাছে বার্তা যাচ্ছে। আমি খেলোয়াড় থাকলে নিজেও হতাশ হতাম। তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে, এটা আমি অস্বীকার করছি না। তবে তারাও বোঝে, এই টুর্নামেন্ট এমন হওয়া উচিত, যা নিয়ে বিসিবি গর্ব করতে পারে। গত কয়েক বছরে যা হয়েছে, তা নিয়ে কি আমরা গর্বিত? সম্ভবত না। খেলোয়াড়রাও একমত যে বিষয়টি সুন্দরভাবে হওয়া উচিত। যুক্তি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে মূল বিষয় হলো টুর্নামেন্টটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা। বিপিএল একটি দুর্দান্ত পণ্য এবং এর প্রতি মানুষের প্রচুর আগ্রহ আছে। এটিকে সঠিকভাবে আয়োজন করতে পারলে সেই আগ্রহ আরও বাড়বে।'