ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজা উপত্যকায় এক মাসের যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অনেকটা অগ্রসর হয়েছে ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা এবং গাজার হামাস সরকার। তবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে উভয়পক্ষের মতপার্থক্য এখনও দূর হয়নি।
বুধবার তিনটি সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধের শুরু থেকে মধ্যস্থতার ভূমিকায় রয়েছে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং মিশর।
হামাসের হাতে থাকা জিম্মি ও ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি, গাজায় সহিংসতা বন্ধ করা এবং উপত্যকায় ত্রাণের সরবরাহ আরও বাড়াতে উভয় পক্ষই এক মাসের যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে।
আলোচনায় যুদ্ধবিরতির শুরুতে বেসামরিক ব্যক্তি ও পরবর্তীতে সেনাদের মুক্তি, দুই পক্ষের সহিংসতায় বিরতি, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি ও গাজায় আরও ত্রাণ পাঠানো—এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছয়টি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্তে ইসরায়েল সম্মত না হওয়া পর্যন্ত হামাস যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অগ্রসর হতে অস্বীকার জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতি শেষে স্থায়ীভাবে সংঘাত নিরসনের নিশ্চয়তা চেয়েছে হামাস।
ইসরায়েল চলতি সপ্তাহে দুই মাস যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব হামাসের কাছে পাঠায়। সেই প্রস্তাবে জিম্মি ও বন্দি মুক্তির পাশাপাশি গাজায় অবস্থানরত ইয়াহিয়া সিনওয়ারসহ গাজার জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিরাপদে অন্য কোনো দেশে চলে যেতে দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে সে প্রস্তাবে রাজি হয়নি সংগঠনটি।
আলোচনার সাথে যুক্ত এমন এক সূত্র জানায়, এ পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয় ২৮ ডিসেম্বর থেকে। প্রায় এক মাস ধরে চলমান এ আলোচনায় বেশিরভাগ বিষয়ে একমত হতে সমর্থ হয়েছে দুই পক্ষ। প্রাথমিকভাবে এক মাস যুদ্ধবিরতির দিকে এখন নজর দেওয়া হচ্ছে। হামাস শুরুতে 'কয়েক মাস' যুদ্ধবিরতির দাবি করেছিল।
রয়টার্স জানায় দুটি মিশরীয় নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে যে, প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার জন্য হামাস শর্ত দিয়েছে যে চুক্তির দ্বিতীয় ধাপটি যেনো সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে, হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি সোমবার রয়টার্সকে বলেন, সংগঠনটি যেকোন আলোচনার জন্য উন্মুক্ত তবে এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি।
তিনি বলেন, "আমরা সকল উদ্যোগ এবং প্রস্তাব আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। তবে যেকোন চুক্তি অবশ্যই গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং দখলদারিত্ব সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের উপর ভিত্তি করে হতে হবে।"
অর্থাৎ হামাস নিশ্চয়তা চাইছে যে যুদ্ধবিরতি শেষে আবার যেনও ইসরায়েল গাজায় হামলা ও অভিযান শুরু না করে।
যুদ্ধবিরতি ও চুক্তি আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হোয়াইট হাউস, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মিশরের রাষ্ট্রীয় তথ্য বিভাগের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য রয়টার্স যোগাযোগ করলেও তারা সাড়া দেয়নি।