রানে শীর্ষে মুশফিক পয়েন্টে খুলনা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১০ম আসরের ঢাকা পর্বে প্রথম চার দিনের খেলা শেষে শীর্ষ রান সংগ্রাহক মুশফিকুর রহিম। ফরচুন বরিশালের মুশফিক ৩ ম্যাচে দুটো হাফসেঞ্চুরিতে ১৫৬ রান করলেও সেই রানের সুফল পায়নি তার দল। বরং দুটো ম্যাচেই হেরেছে বরিশাল। ২ ম্যাচে ২ জয়ে শীর্ষে থেকে সিলেটে পা রেখেছে খুলনা টাইগার্স।

টি-টোয়েন্টিতে রান আর উইকেটের সংখ্যাই সবসময় নির্ধারণ করে না খেলোয়াড়ের সাফল্য বা ব্যর্থতা, বরং গুরুত্ব বহন করে ইমপ্যাক্ট বা খেলার ফলে পারফরম্যান্সের প্রভাব। সেই মানদণ্ডে এখন পর্যন্ত আসরের সেরা ইনিংসটা খেলেছেন খুলনার ক্যারিবীয় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এভিন লুইস। ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ১৮৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে লুইসের ২২ বলে ৫৩ রানের ইনিংসটাই ম্যাচটা খুলনা টাইগার্সের মুঠোয় নিয়ে আসে। তাতে চাপা পড়ে যায় মুশফিকের ৩৯ বলে ৬৮ রানের ইনিংসের কৃতিত্ব।

পরের ম্যাচে আরেক ক্যারিবিয়ান ম্যাথু ফোর্ডের ব্যাটে জয় হাতছাড়া হয় মুশফিকের দলের। খালেদ আহমেদের করা ম্যাচের শেষ ওভারে ৪ বলে ১৩ রান নিয়ে ফোর্ড রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার জেতান কুমিল্লাকে, তার আগে ৩৩ রানে নেন ২ উইকেট। ম্যাচের রঙ বদলে দেওয়া পারফরম্যান্সে এরপরই আছেন নজিবুল্লাহ জাদরান। ৩ ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে খুলনার পেছনে থাকা চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের চালিকাশক্তি এই আফগান। ৩ ম্যাচে করেছেন ৬১*, ২৪ আর ৩২*। স্ট্রাইক-রেট ১৬৪.৭৮। 

বাবর আজম একটিমাত্র ম্যাচ খেলে নিজেকে প্রমাণ করলেও তার স্বদেশি এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিবাহের কারণে আলোচনায় আসা শোয়েব মালিক পারছেন না নিজেকে মেলে ধরতে। ৩ ম্যাচে মাত্র ২৯ রান আর বল হাতে ২ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া এই অলরাউন্ডারকে নিয়ে হয়তো নতুন করেই ভাববেন বরিশালের মেন্টর ডেভ হোয়াটমোর।

বোলার হিসেবে ম্যাচের ফলে সবচেয়ে বড় প্রভাব রাখছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের আল আমিন হোসেন আর খুলনা টাইগার্সের নাহিদুল ইসলাম। প্রত্যেকে ৪টি করে উইকেট নিলেও তাদের পারফরম্যান্স দলের জয়ে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। খালেদ আহমেদ ৩ ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন, বরিশালের একমাত্র জয়ে তার ক্যারিয়ার সেরা (৪/৩১) বোলিং ফিগারের বড় ভূমিকা থাকলেও পরের দুই ম্যাচে শিশিরের প্রভাবে ধার হারিয়েছেন এই পেসার। সবশেষ ২ ম্যাচে ৭৪ রান দিয়েছেন, নিয়েছেন মাত্র একটি উইকেট।

অনেকটা আলোচনার বাইরে থাকা দল খুলনা টাইগার্সের সাফল্য এসেছে তাদের দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে। চট্টগ্রামের বিপক্ষে নাহিদুলের ৪ উইকেটের সঙ্গে ফাহিম আশরাফের ৩ উইকেট প্রতিপক্ষকে আটকে দেয় মাত্র ১২১ রানে। 

আবার বরিশালের বিপক্ষে লুইসের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরির পর আনামুল হক (৬৩*) আর আফিফ হোসেন (৪১) দলকে বেপথু করেননি।

সিলেট ভুগছে নিজেদের সিদ্ধান্তে। ঢাকার ২ ম্যাচে কোনো জয়ের মুখ দেখেনি সিলেট। প্রথম ম্যাচে ১৭৭ রানের পুঁজি তারা বাঁচাতে পারেনি চট্টগ্রামের বিপক্ষে। একাদশে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের ইচ্ছায় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা খেলছেন অনেকটা বাধ্য হয়েই। ব্যাটিং অর্ডারে রদবদল, মাশরাফীর বোলারের ভূমিকায় অকার্যকর অবস্থা সেই সঙ্গে একাদশে জায়গা ধরে রাখাসহ বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিচ্ছে গতবারের রানার্সআপরা। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকেই সিলেটে মাঠে নামবে সিলেট স্ট্রাইকার্স। ঘরে মাঠের দর্শক সমর্থন কি পারবে তাদের বাঁচাতে?