গতকাল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের নির্ধারিত ছয়টি ম্যাচের মধ্যে মাঠের খেলাই হতে পারেনি একটিতে। বকেয়া পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগে ম্যাচ বয়কট করেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা, যার ফলে কোনো বল মাঠে না গড়িয়েই পূর্ণ পয়েন্ট (ওয়াকওভার) পেয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। এতে নিয়ম অনুযায়ী অবনমন নিশ্চিত হয়ে গেছে ব্রাদার্সের। আগামী মৌসুমে প্রথম বিভাগ লিগে খেলতে হবে ব্রাদার্সকে।
বাকি পাঁচটি ম্যাচ মাঠে গড়ালেও বৃষ্টির বাগড়ায় কোনোটিরই ভাগ্য নির্ধারণ হয়নি। সবগুলো ম্যাচই গড়িয়েছে রিজার্ভ ডে-তে। তবে ফলহীন এই দিনেও ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ জুড়িয়েছেন মুশফিকুর রহিম, তাওহিদ হৃদয় ও ইরফান শুক্কুর। মোহামেডান ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের এই তিন ব্যাটার তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি।
মোহামেডানের রান পাহাড় ও মুশফিকের দ্রুততম সেঞ্চুরি
বিকেএসপিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম (৫৩) ও এনামুল হক বিজয় (৬২)। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৭ রান। দুই ওপেনার ফেরার পর হাল ধরেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
তৃতীয় উইকেটে এই জুটি স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ১৭৩ রান। গাজী গ্রুপের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৫৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক। ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে তাঁর ১৬তম শতক। মুশফিক ৫৫ বলে ১০০ রান করে আউট হলেও, অন্যপ্রান্তে তাওহিদ হৃদয় ছিলেন বিধ্বংসী। মাত্র ৬৫ বলে লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত হৃদয় ৬৬ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন।
দুই টপ-অর্ডার ব্যাটারের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪২ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে মোহামেডান ৪ উইকেটে ৩৩৩ রানের বিশাল পুঁজি দাঁড় করায়। জবাবে গাজী গ্রুপ ৪.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৪২ রান তোলার পর বৃষ্টি নামলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ম্যাচের বাকি অংশ আজ অনুষ্ঠিত হবে।
ইরফান শুক্কুরের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মাঝারি সংগ্রহ
আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে শতক হাঁকান বাঁহাতি ব্যাটার ইরফান শুক্কুর। ৯৯ বল খেলে ১১টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ১১৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। মিডল অর্ডারে মেহেদী হাসান মিরাজও ৭০ বলে ৭২ রানের কার্যকর অবদান রাখেন। তবে বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতায় রূপগঞ্জের ইনিংস ২৭৫ রানেই থেমে যায়। জবাবে আবাহনী ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৫১ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়।
বৃষ্টির কবলে অন্যান্য ম্যাচ
-
বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স বনাম ঢাকা লেপার্ড: ভারী বৃষ্টি ও ভেজা মাঠের কারণে ইউল্যাব মাঠে খেলা হতে পেরেছে মাত্র ২৭.৫ ওভার। সাইফ হাসানের অপরাজিত ৫৪ (৮৭ বল) রানের ওপর ভর করে ২ উইকেটে ১০৬ রান সংগ্রহ করেছে বসুন্ধরা।
-
গুলশান ক্রিকেট ক্লাব বনাম সিটি ক্লাব: বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ৪৬ ওভারের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২১০ রানে অলআউট হয় গুলশান। রান তাড়া করতে নেমে সিটির ব্যাটাররা চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে, ১২ ওভারে মাত্র ৪২ রান তুলতেই তারা হারিয়ে ফেলে ৭ উইকেট।
-
প্রাইম ব্যাংক বনাম রূপগঞ্জ টাইগার্স: ক্রিকেটার্স একাডেমির মাঠে বৃষ্টির বাধায় খেলা হতে পেরেছে মাত্র ১৭ ওভার। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান তোলার পর খেলা স্থগিত হয়ে যায়।
দলটির সঙ্গে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে দ্বন্দ্ব অবশ্য নতুন নয়। প্রায় প্রতি মৌসুমেই এ নিয়ে আলোচনা হয়। গত বছরও ম্যাচ বর্জনের হুমকি দেন ক্রিকেটাররা। যদিও শেষ পর্যন্ত সে পথে হাঁটেননি তাঁরা। কিন্তু এবার মাঠে উপস্থিত হয়েও খেলতে না নামার মতো গুরুতর ঘটনার জন্ম দেন সোহাগ গাজীরা। প্রত্যাশা অনুযায়ী পারিশ্রমিক না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে এমন করেছেন বলে মন্তব্য করেন দলটির কয়েকজন ক্রিকেটার।
ব্রাদার্সের তরুণ একজন ব্যাটার বলেন, 'শুরুতে আমাদের পারিশ্রমিকের ১৫ শতাংশ টাকা দেয়। এরপর ঈদের আগে আরো ৩০ শতাংশ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন খামে করে ১০-১৫ হাজার টাকা দেয়। এই টাকা দিয়ে কী হবে বলুন? এজন্য আমরা ফেরত দিই। বৃহস্পতিবার বাকি টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও আবার একই অর্থই দেয়। এজন্য আমরা বাধ্য হয়েছি ম্যাচ বর্জন করতে। খেলাটা তো আমাদের পেশা। আমরা খেলতে চাই। কিন্তু এভাবে টাকাপয়সা না পেলে কিভাবে খেলব!'
ব্রাদার্সের এমন কাণ্ডে বিসিবিও বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের (সিসিডিএম) একজন কর্মকর্তা জানান, লিগের নিয়ম অনুযায়ী দলটির অবনমন নিশ্চিত হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে দুই দলের অবনমন হওয়ার কথা। সেখানে ব্রাদার্সের অবনমন হওয়ায় অন্য ১১টি দলের মধ্যে পয়েন্ট টেবিলের একদম নিচের দলটিও প্রথম বিভাগে নেমে যাবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, 'ব্রাদার্স এবার যে দল করেছে, সেখানে ২০ লাখ টাকাও খরচ হওয়ার কথা নয়। অথচ বিসিবি থেকে অনুদানের ২৫ লাখ এবং জার্সির জন্য আরো ২ লাখ টাকা পেয়েছে। প্রতি ম্যাচের যাতায়াতের জন্য বাড়তি ১৫ হাজার করে টাকা পায়। এবার দুপুরের খাবারও বিসিবি দিচ্ছে। তবু কেন খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দিতে পারছে না, সেটা জানি না। তবে যা হলো, এটা খুবই লজ্জার।'
