‘কৃষ থেকে ফাইটার’

অ্যাকশনের সৌন্দর্য হৃতিক

হৃতিক রোশনের ডেব্যু সিনেমা ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ রিলিজ হয় ২০০০ সালে। আজ থেকে ২৪ বছর আগে। নির্মাতা রাকেশ রোশন বানিয়েছিলেন রোমান্টিক সিনেমাটি। গল্পে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন হৃতিক। বলা যায়, এর মাধ্যমেই বলিউড পেয়ে যায় তাদের নতুন সূর্য।

ডেব্যু সিনেমার প্রথমার্ধে হৃতিককে দেখা যায় রোহিত চরিত্রে। একজন শান্ত তরুণ, যিনি সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হয় না। দ্বিতীয়ার্ধে হৃতিককে দেখা যায় একদম ভিন্ন রূপে। গল্পে, রোহিতের মৃত্যুর পর সোনিয়া (আমিশা প্যাটেল) নিউজিল্যান্ডে চলে যান। একদিন তার গাড়ি সিগন্যালে অপেক্ষা করছে। সোনিয়া বাইরে তাকাতেই দেখতে পান রাজ নামের এক তরুণকে, যার চেহারা তার মৃত প্রেমিকের মতো।

এ সময় কালো লেদার জ্যাকেট পরা হৃতিকের চুল পেছনে আঁচড়ানো, চোখে রিমলেস চশমা। সিগন্যাল সবুজ সংকেত দিলে তিনি দূরে চলে যান। বুঝতে বাকি থাকে না চুইংগাম চিবানো এই মোটরসাইকেল আরোহী পপ কালচারের সঙ্গে যুক্ত।

হৃতিকই প্রথম কোনো অভিনেতা, যিনি সুপার হিরোকে অনন্যরূপে উপস্থাপন করেছেন। কোই মিল গ্যায়ার (২০০৩) মাধ্যমে শুরু হওয়া কৃষ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তিনি এমন এক সুপার হিরোর ভূমিকায় অভিনয় করেন, যার জাদু নামে ভিনগ্রহের এক প্রাণীর সঙ্গে দেখা হয় এবং তার ছোঁয়ায় অতিমানবীয় ক্ষমতার বিকাশ ঘটে।

কৃষ (২০০৬) সিনেমার শুরুতে হৃতিককে ঘোড়ার সঙ্গে দৌড়াতে দেখা যায়। এ সময় তার বাহু, খোলা বুক এবং প্রশস্ত পিঠের ক্লোজআপ পর্দায় ফুটে ওঠে। কিন্তু সিনেমাটি একই সঙ্গে তার দীর্ঘ চুল, বন-সবুজ চোখ, দৃঢ় সংকল্পের অভিব্যক্তির ওপর ফোকাস করে। কৃষ-৩ (২০১৩)-এর ক্লাইম্যাক্সে খলনায়ক কালকে আঘাত করেন হৃতিক। তখন ক্যামেরা আবারও তার চোখে স্থির থাকে। এ সময় অশ্রুতে জ¦লজ¦ল করে কৃষের চোখ।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, অ্যাকশনের প্রতি দুর্বলতা আছে হৃতিকের। একই সঙ্গে তার চোখে রয়েছে আন্তরিক কোমলতা, যা অ্যাকশন দৃশ্যের শারীরিক ভাষাও। সাধারণ নায়কের শারীরিক শক্তি এবং সাহসিকতাই অ্যাকশন সিনেমার অবলম্বন। যেমন অজয় দেবগন সিংহাম (২০১১) সিনেমায় একটি ল্যাম্পপোস্ট তুলে ফেলেন বা সালমান খান এক থা টাইগারে (২০১২) মোটরসাইকেল থেকে লাফিয়ে উড়ন্ত প্লেনে চড়েন।

অপরদিকে হৃতিকের অ্যাকশন সিনেমায় নারী চরিত্রের যথাযথ গুরুত্ব থাকে। ধুম ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় কিস্তির কথাই ধরা যাক। গল্পে তিনি একজন চোরের ভূমিকায় অভিনয় করেন, যার নাম মিস্টার এ। এতে ভিলেন হয়েও সবার মনোযোগ কেড়ে নেন হৃতিক। সিনেমায় তাকে রানী এলিজাবেথের ছদ্মবেশ ধারণ করতে দেখা যায়।

আবার ঐশ্বরিয়া রাইয়ের চরিত্রটিও তার অপরাধজীবনের যোগ্য সঙ্গী। এখানে ঐশ্বরিয়ার চরিত্র সুনহেরির প্রতি মিস্টার এ-এর ভালোবাসা পরিত্রাণ হয়ে ওঠে। কারণ নিজের মুক্তিই তার উদ্দেশ্য নয়। একইভাবে সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ব্যাং ব্যাং (২০১৪) সিনেমাটির ক্ষেত্রেও তাই। সিনেমায় ক্যাটরিনা কাইফের চরিত্রটি একজন চুপচাপ স্বভাবের ব্যাংককর্মীর। সেই তিনিই একজন গুপ্তচরের রোমাঞ্চকর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

একজন অভিনেতার প্রধান গুণ মুহূর্তের মধ্যে মুখভঙ্গি পরিবর্তন করা। হৃতিক তা প্রায়ই করে দেখান। ফলে তার অ্যাকশনে একটা সৌন্দর্য থাকে, যা তাকে বাকি অভিনেতাদের চেয়ে আলাদা করে তোলে। ‘ব্যাং ব্যাং’ থেকে শুরু করে ‘ওয়ার’ (২০১৯) দুটি সিনেমাতেই তিনি নান্দনিকতার সঙ্গে অ্যাকশন করেছেন। তার সিনেমায় অ্যাকশনের বিশেষ কারণ থাকে এবং এসব দৃশ্য অকারণে সহিংসতা দেখায় না। তারই একটি প্রমাণ কাবিল (২০১৭)। সিনেমায় অন্ধ রোহানের ভূমিকায় অভিনয় করেন হৃতিক। গল্পে রোহানের স্ত্রীর ওপর হামলা হয় এবং ইন্দ্রিয় ও প্রবৃত্তি ব্যবহার করে এই হত্যার প্রতিশোধ নেন রোহান।

গতকাল মুক্তি পেয়েছে হৃতিকের আরেকটি অ্যাকশন সিনেমা ‘ফাইটার’। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত এই সিনেমায় আছেন দীপিকা পাড়–কোনও। সিনেমাটিকে যদি যশ রাজ ফিল্মসের স্পাই ইউনিভার্সের সঙ্গে তুলনা করা যায়, তাহলে হয়তো শেষ পর্যন্ত পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোই বজায় থাকবে। কিন্তু দুই যুগ আগে বলিউডে যে সূর্য উদিত হয়েছিল, তা যে এখনো তাপ দিচ্ছে, হৃতিক সেই প্রমাণ দিয়েই চলেছেন। ফাইটারের মাধ্যমে তা প্রমাণ হবে আরেকবার।

ফিল্ম কম্পনিয়ন অবলম্বনে