ঢাকার পর এবার সিলেটে পড়েছে বিপিএলের তাঁবু। খেলা চলবে দশদিন ধরে। ৬টা ম্যাচ ডে, এক ডজন ম্যাচ। এই ১২ ম্যাচের ৫টাই সিলেট স্ট্রাইকার্সের, ঢাকায় ২ ম্যাচ হেরে যারা পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে। রান উৎসবের জন্য সুখ্যাতি আছে সিলেটের উইকেটের, সুখ্যাতি আছে দর্শক উপস্থিতির জন্যও। রান এবং দর্শক খরা দুটোই ঘুচিয়ে বিপিএলকে বাঁচিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জটা সিলেটের, সেই সঙ্গে সিলেট স্ট্রাইকার্স দলেরও বেঁচে থাকার লড়াই। নিজেদের মাঠের দর্শক সমর্থন পেয়ে পাঁচে পাঁচ করতে না পারা মানেই তো শেষ চারের স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসা।
জেঁকে বসেছে শীত। ঠা-ায় সবই যেন জমে যাওয়ার উপক্রম, শুধু জমছে না বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। অন্তত ঢাকা পর্বে প্রথম ৪ ম্যাচের পর এমনটাই আভাস। শেরে-বাংলায় দিনের প্রথম ম্যাচে ১২০ রানের আশপাশেই থামছে আগে ব্যাট করা দল আর সেটা তাড়া করতে শেষ ওভার পর্যন্ত খেলছে প্রতিপক্ষ। দ্বিতীয় ম্যাচে দুই পক্ষকে নিয়ে খেলছে আসলে শিশির। টস জিতে আগে বোলিং নেওয়ার সূত্র কাজে লাগিয়ে ৪ ম্যাচেই জিতছে পরে ব্যাটিং করা দল। অনিশ্চয়তা যতটুকু সেটা দর্শক উপস্থিতি নিয়ে। দুপুরের ফাঁকা গ্যালারি সন্ধ্যায় কতটা ভরবে নির্ভর করছে কোন দলের খেলা তার ওপর। তবে সিলেটে টিকিট বিক্রির হার ঢাকার চেয়ে অনেক বেশি। লম্বা লাইন, কালোবাজারে এসব বিক্রি হচ্ছে। যথাযথ কর্র্তৃপক্ষও জানেন কারা এসব করে এবং কেন হয়। অর্থনীতির ভাষায়, জোগান স্বল্প চাহিদা অসীম। এই কারণেই কালোবাজারি। শুক্রবার ছুটির দিন, শুরুতে সাকিবের রংপুর রাইডার্সের প্রতিপক্ষ শীর্ষে থাকা খুলনা টাইগার্স। পরের ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্স আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ম্যাচটা রূপ নিয়েছে আঞ্চলিক লড়াইয়ে। সিলেট বিভাগে কর্মসূত্রে কুমিল্লার মানুষ অনেক বেশি, তার ওপর মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দলকে কুমিল্লাই গতবার হারিয়েছিল ফাইনালে। সব মিলিয়ে বিপিএলকে ঘিরে আগ্রহের কমতি নেই।
গেল আসরে, আবির্ভাবেই সিলেটের মানুষের হৃদয়ের কাছে সিলেট স্ট্রাইকার্স পৌঁছে যায় মাশরাফীর নেতৃত্বের সঙ্গে মাঠের সাফল্যে। সিলেটে পা রাখার আগে সিলেট স্ট্রাইকার্স ছিল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল। বিমানবন্দর থেকে তাদের সঙ্গী হয়েছিল সমর্থকদের এক বিরাট শোভাযাত্রা। এবার সিলেট ধুঁকছে। মাশরাফীও ধুঁকছেন। স্পষ্ট বলেছেন যে শরীরের এই অবস্থায় তার খেলা চালিয়ে যাওয়াটা আদর্শ নয়। রাজনৈতিক দায়িত্ব বাড়ছে। কমে আসছে ফিটনেস। তবুও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক পক্ষের চাওয়াতে মাশরাফী একাদশে। ৩০ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশন শুরু হলে হয়তো থাকবেন না নতুন হুইপ, তবে হারতে থাকা সিলেট ততদিনে আরও ৩টা ম্যাচ হেরে গেলে সমীকরণ হয়ে উঠবে জটিল। এবার সিলেট স্ট্রাইকার্স নিয়ে উন্মাদনা আগের মতো না থাকলেও সমর্থন কমবে না বলেই মনে করেন মাশরাফী, ‘আমরা আগের বার এখানে চারটি জিতে, সিলেটে গিয়ে প্রথমটা হেরেছিলাম। এইগুলো ম্যাটার করে না। হোম গ্রাউন্ড হয়তো ক্রাউড আমাদের পক্ষে থাকবে ডেফিনিটলি।’ উইকেটও ভালো হবে, ব্যাটিংয়ের জন্য এমনটাই আশাবাদ, ‘সিলেটে লাস্ট (গত আসরে) যে খেলাটা হয়েছিল, উইকেট ভালো হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর ঘরোয়া- বিপিএলের লাস্ট ইয়ারে ২০০ চেজ হয়েছে একবার। ডে-নাইট ম্যাচে আমার মনে হয় না ম্যাটার করবে উইকেটে। সিলেটে আল্টিমেটলি ডে-নাইট ম্যাচে বোলাররা স্ট্রাগল করবেই, সেখানে রান হবেই। দিনের ম্যাচ কেমন হবে সেটা আসলে না দেখা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। তবে হোপফুলি যে উইকেট ভালো হবে’, মাশরাফী বলেছিলেন রংপুরের বিপক্ষে ম্যাচের পর ঢাকায়। কাল সিলেটে দলের পেসার তানজিম হাসান সাকিবও একই সুরেই বলেছেন, ‘সিলেটে শিশির একটু বেশি পড়ে। রাতে আমাদের কুমিল্লার সঙ্গে ম্যাচ আছে। আশা করি, বল ভালোভাবে ব্যাটে আসবে। ঢাকার উইকেটের থেকে এখানে রান করা সুবিধা হবে। তুলনামূলক গ্রিপ একটু কম হবে। খেলার মধ্যে রান হবে অনেক।’
বিপিএলকে জমিয়ে তুলতে রান চাই। রান করার জন্যই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স উড়িয়ে আনছে বিগব্যাশ লিগের চ্যাম্পিয়ন ব্রিসবেন হিটের ব্যাটসম্যান জশ ব্রাউন। ৫৭ বলে ১৪০ রানের ইনিংস খেলেছেন দিন তিনেক আগে, মেরেছেন ১২টা ছক্কা আর ১০টা চার। আজই তার দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা। ফরচুন বরিশাল থেকে শোয়েব মালিক বিদায় নিয়েছেন, এসেছেন বরিশাল বার্নার্স আমলে খেলে প্রথম মৌসুমের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আহমেদ শেহজাদ। এক দশক পর তার ব্যাটের ধার কেমন সেটাও পরখ হয়ে যাবে। বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ানরাও চলে এসেছেন। খুলনার এভিন লুইসের ২১ বলে হাফসেঞ্চুরির ঝলক আবার দেখা যাবে কি না সেটাও প্রশ্ন। সিলেটের বেন কাটিং আর বেনি হাওয়েলের সঙ্গে রায়ান বার্ল কতটা কী করতে পারবেন সেটারও পরীক্ষা।
মাঠে দর্শকের আগমনের আভাস আছে। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার মানুষেরাও চলে এসেছেন। আড়মোড়া ভেঙে তৈরি দলগুলো। শীতের রাতে সিলেটের মাঠে বিপিএল জমাতে চাই চার ছক্কায় ভরপুর টানটান উত্তেজনার ম্যাচ। আর সিলেট স্ট্রাইকার্সকে ফিরতে হবে জয়ের ধারায়। কারণ সিলেট যদি ক্রমাগত হারতেই থাকে, তখন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অবস্থা যে হবে বউ পালিয়ে যাওয়া বিয়েবাড়ির মতো!