কিংসের সামনে বড্ড ম্লান আবাহনী

প্রিমিয়ার লিগের এখনও ১৩টি খেলা বাকি। তারপরও আবাহনীর শিরোপা স্বপ্নধুসর এটা বলে দেওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার যে তারা 'ঘরের মাঠে' বসুন্ধরা কিংসের কাছে হেরেছে ২-০ ব্যবধানে। পাঁচ ম্যাচ শেষে তারা শীর্ষে থাকা কিংসের চেয়ে পিছিয়ে গেছে ৮ পয়েন্টে। এই ব্যবধান ঘুঁচিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করা আকাশীদের জন্য ভীষণ কঠিন।

গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়ামে আবাহনী নেমেছিল লিগে কিংসের বিপক্ষে প্রথম জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। এর আগের ৮ দেখায় একটিও জেতা হয়নি। ছয়টিতে হার, দুটিতে ড্র। মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ৪-০ গোলে হারের প্রতিশোধ নেওয়ারও একটা ব্যাপার ছিল। কিন্তু আকাশীরা জয়ের জন্য যে খেলাটা প্রয়োজন ছিল, সেটা খেলতে পারেনি। উল্টো ফের হারের হতাশা সঙ্গী করে ফিরতে হয়েছে। তাতে কিংসের অজেয় যাত্রা অব্যাহত থাকলো। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা ফের ধেয়ে চলছে সাফল্যের দিকে। আর লিগে দ্বিতীয় হারের তেতো স্বাদ পাওয়া আবাহনী সাত পয়েন্ট নিয়ে থাকছে তিনে। ময়মনসিংহে দিনের অপর ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করে মোহামেডান কিংসের কাজটা আরও সহজ করে দিয়েছে। সাদা-কালোরা ১১ পয়েন্ট নিয়ে আছে দুইয়ে।

অথচ ম্যাচের গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো যদি ষষ্ঠ মিনিটে গোল পেয়ে যেতো আবাহনী। সেটা হতে দেননি এই মৌসুমে প্রথম লিগ ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া কিংসের গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। লিগে প্রত্যাবর্তনটা জিকো রাঙালেন নিজের মতো করে। অসাধারণ তিন সেভে কিংসের বিপক্ষে আবাহনীকে টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল করতে দেননি মদ কান্ডে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা এই গোলকিপার। 
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে আবাহনী অধিনায়ক রহমত মিয়ার থ্রো-ইন পেয়ে ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত ক্রস করেছিলেন মোহাম্মদ হৃদয়। অনেকটা লাফিয়ে তাতে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ওয়াশিংটন ব্রান্দাওয়ের হেড বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন জিকো। ২৪ মিনিটে মার্কারকে বোকা বানিয়ে বাঁ দিক থেকে কিংস অধিনায়ক রবসন রবিনহোর ক্রসে রাকিব হোসেনের হেড শুয়ে পড়ে রুখে বিপদমুক্ত করেন আবাহনী কিপার শহীদুল আলম সোহেল। তবে দুই মিনিট পর ঠিকই গোল হজম করতে হয় আবাহনীকে। ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার মিগেল ফিগেইরার দূরের পোস্টের কর্নার হেড করে গোলমুখে ফেলেন স্বদেশী ডরিয়েলটন গোমেজ। ভাসানো বলে ওভার হেড কিকে বল জালে জমা করেন কিংস কাপ্তান রবিনহো।

সে সময় আবাহনীর ডিফেন্ডাররা চেয়ে চেয়ে দেখেছেন চলতি লিগের অন্যতম সেরা গোলটি। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচ ফেরার মতো খেলতে পারেনি আবাহনী। অপরিকল্পিত ফুটবলে বিরক্তিই বাড়িয়েছে তারা। দলটির আক্রমণভাগের তিন বিদেশীকে বলের জোগান দেওয়ার মতো ছিল না কেউ। এনামুল গাজী, আসাদুজ্জামান বাবলু, মাসুদ মৃধার মতো আনকোঁড়ারা তিন বিদেশীর তালে তাল মেলাতে পারেননি। ৬৬ মিনিটে মাঝমাঠে তপু বর্মণের শট জোনাথন ফার্নান্দেজের গায়ে লেগে কিংসের অর্ধে চলে আসলে দ্রুত বল ধরে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কর্নেলিয়াস যে শট নেন তা পোস্টে থাকলে বিপদ হতে পারতো কিংসের। ৭২ মিনিটে ২-০ তে এগিয়ে যায় কিংস। রবিনহোর বাড়ানো বল ডরিয়েলটনের সঙ্গে দেওয়া নেওয়া করে বক্সের ভেতর থেকে সহজেই সোহেলকে পরাস্ত করেন মিগেল ফিগেইরা। 

৮২ মিনিটে আবাহনীকে ব্যবধান কমাতে দেননি মিগেল। জোনাথনের কর্নারে বাবলুর গ্লান্সিং হেডার গোললাইন থেকে হেড করে ক্লিয়ার করেন কিংস স্ট্রাইকার। কয়েক সেকেন্ড পর এনামুল গাজীর শট দারুণভাবে রুখে দেন জিকো। ফিরতি আক্রমনে ডরিয়েলটনের কাটব্যাকে মিগেলের শট কর্নারের বিনিয়ে ক্লিয়ার করেন আবাহনী কিপার সোহেল। ৮৯ মিনিটে ওয়াশিংটনের আড়াআড়ি পাসে কর্নেলিয়াসের প্লেসিং ফিস্ট করে গোল হতে দেননি জিকো। ফলে ঘরের মাঠে টানা ছয় ম্যাচ পর হারের লজ্জায় ডুবতে হয় আবাহনীকে। সেই সঙ্গে লিগ রেসে অনেকটা পিছিয়ে পড়ার কষ্ট তো আছেই।

ময়মনসিংহে মোহামেডানকে রুখে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে ধুকতে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনী। নয়ে থাকা দলটির সংগ্রহ তিন। অন্যদিকে রাজশাহীতে ব্রাদার্সকে সাজ্জাদ হোসেনের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে বড় লাফ দিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। দ্বিতীয়ার্ধে সাজ্জাদের দুই গোলে জামাল পেয়েছে লিগে দ্বিতীয় জয়ের দেখা। তাতে ছয় পয়েন্ট নিয়ে এখন তারা আট থেকে পাঁচে উঠে গেছে।