কুষ্টিয়ায় পুলিশের ভয়ে পালাতে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহীর সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন আসিফ (২০) নামে এক কলেজছাত্র। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আসিফের ভাইও। তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরের পর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা সড়কস্থ আইলচারা ইউনিয়নের বাক্স ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আসিফ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালি খালপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে আসিফ ও তার ভাই আকিব চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে তাদের চাচাতো বোনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আজ শুক্রবার দুপুরে তারা দুই ভাই বাড়ি ফেরার পথে কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা সড়কের আইলচারা বল্লভপুর বাক্স ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টের কবলে পড়ে। মোটরসাইকেলের লাইসেন্স না থাকায় পুলিশকে দেখে পালানোর চেষ্টা করেন তারা। এসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আসিফ ও তার ভাই আকিব গুরুতর আহত হন। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ভাই আকিব।
ফারুক হোসেন নামে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘হালসা ক্যাম্প পুলিশ আইলচারা বাক্স ব্রীজের কাছে চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র চেক করছিল। এ সময় আসিফ চেকপোস্ট দেখে পালানোর চেষ্টা করছিল। পুলিশ তাদের পেছনে ধাওয়া দিলে পালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন আসিফ ও তার ভাই আকিব।
এ বিষয়ে চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা হালসা ক্যাম্পের এএসআই শরীফুল জানান, নিহত আসিফকে ধাওয়া দেয়া হয়নি। পালাতে গিয়ে তারা অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সংঘর্ষে দুর্ঘটনা কবলিত হন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানা জানান মিরপুর উপজেলার হালসা এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট ছিল। চেকপোস্ট দেখে পালানোর সময় তাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়ার আড়াইশ’ শয্যার হাসপাতালে রাখা হয়েছে।