বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমসাময়িক জীবিত লেখকদের মৌলিক অবদান ও তাদের সৃজনী প্রতিভাকে স্বীকৃতদানই মূলত বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেওয়া হয়। যার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। মূলত বাংলা একাডেমি নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসারে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। উক্ত নীতিমালা সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রথম অধ্যায় অনুযায়ী পুরস্কারের নাম ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’।
এছাড়াও নীতিমালায় উল্লেখ থাকে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে মৌলিক এবং সামগ্রিক অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হবে। সাহিত্যের ১০টি শাখায় এ পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতিটি শাখায় এক জন করে মোট ১০ জনকে প্রতিবছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। যদি কোনো শাখায় যোগ্য লেখক না পাওয়া যায় তবে সে বছর সেই শাখায় কোনো পুরস্কার দেওয়া হবে না।
শাখাগুলো নিম্নরূপ:
ক. কবিতা
খ. কথাসাহিত্য
গ. প্রবন্ধ/গবেষণা
ঘ. অনুবাদ
ঙ. নাটক
চ. শিশুসাহিত্য
ছ. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা
জ. বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞান
ঝ. আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনি
ঞ. ফোকলোর
প্রতিটি সাহিত্য পুরস্কারের অর্থমূল্য তিন লাখ টাকা। পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিকদের পুরস্কারের চেক, সম্মাননাপত্র ও সম্মাননা-প্রতীক দেওয়া হবে। সম্মাননাপত্রে বাংলা একাডেমির পক্ষে সভাপতি এবং মহাপরিচালকের স্বাক্ষর থাকবে। কোনো সাহিত্যিককে মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়া যাবে না। প্রতিবছর এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
১. শুধু বাংলাদেশের নাগরিক এই পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
২. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার চেতনা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী কোনো সাহিত্যিক এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
৩. এই পুরস্কার কেবল ব্যক্তিকে দেওয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা দলকে দেওয়া যাবে না।
৪. পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য কোনো ব্যক্তিগত আবেদনপত্র গ্রাহ্য করা হবে না।
৫. কোনো সাহিত্যিককে কেবল একবারই এই পুরস্কার দেওয়া হবে।
৬. বাংলা একাডেমির সভাপতি, নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ এবং সাহিত্য পুরস্কার কমিটির কোনো সদস্য এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না।
তৃতীয় অধ্যায়
১. বাংলা একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে একাডেমির ফেলোদের মধ্যে থেকে ২৫ (পঁচিশ) জন প্রস্তাবক নির্বাচন করা হবে।
২. প্রস্তাবকগণ মনোনয়ন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখবেন।
৩. নির্বাহী পরিষদের কোনো সদস্য প্রস্তাবক হতে পারবেন না।
৪. কোনো প্রস্তাবক বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।
চতুর্থ অধ্যায়
১. বাংলা একাডেমি প্রতি বছর ১ জানুয়ারির মধ্যে প্রস্তাবকের কাছে নিম্নোক্ত কাগজপত্র সরবরাহ করবে:
ক. প্রস্তাবের ছক।
খ. বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত জীবিত লেখকদের তালিকা।
গ. বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও সদস্যদের নাম।
২. প্রস্তাবকরা প্রস্তাবের ছক যথারীতি পূরণ করে তা একাডেমি কর্তৃক সরবরাহকৃত নির্দিষ্ট খামে মহাপরিচালক বরাবর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে পাঠাবেন।
৩. প্রস্তাবকদের কোনো সম্মানি দেওয়া হবে না।
৪. বাংলা একাডেমির নির্বাহী পরিষদ প্রতিবছর ২০ জানুয়ারির মধ্যে এই পুরস্কারের জন্য দেশবরেণ্য সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, লেখক, পণ্ডিত, গবেষক এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত দুজন নির্বাহী পরিষদ সদস্য সমন্বয়ে ৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি’ গঠন করবে। কমিটি'র বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
৫. বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ২৩ জানুয়ারির মধ্যে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি’র সভা আহ্বান করবেন।
৬. ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি’ প্রাপ্ত তথ্যসমূহ বিবেচনা করে ঐকমত্য ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়ার জন্য তাদের সুপারিশ করা নামের তালিকা বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠাবেন।
৭. ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি’র সুপারিশ করা নামের তালিকা অনুমোদনের জন্য ২৫ জানুয়ারির মধ্যে বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদের সভা আহ্বান করবে। নির্বাহী পরিষদের সভাপতি উপস্থিত সদস্যদের ঐকমত্য/সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করবেন।
৮. ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি’র প্রস্তাব নির্বাহী পরিষদ ঐকমত্য/সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ গ্রহণ বা আংশিক গ্রহণ করতে পারবেন। তবে তারা নতুন কাউকে পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করতে পারবেন।
পঞ্চম অধ্যায়
১. বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক প্রাধিকৃত কর্মকর্তা পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকের নাম ঘোষণা করবেন।
২. প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রধান অতিথি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিকদের অর্থের চেক, সম্মাননাপত্র ও সম্মাননা প্রতীক দেবেন।
ষষ্ঠ অধ্যায়
১. পুরস্কার ঘোষণার পর পুরস্কারের জন্য মনোনীত সাহিত্যিক প্রয়াত হলে তার আইনানুগ উত্তরাধিকারী বা উত্তরাধিকারীরা পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। আইনানুগ উত্তরাধিকারীর সংখ্যা একাধিক হলে পুরস্কারের অর্থ প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে।
২. পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিকদের বাংলা একাডেমির ফেলোশিপ দেওয়া হবে।
সপ্তম অধ্যায়
১. এই নীতিমালা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ বা আংশিক সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্তন বা বাতিল করার অধিকার নির্বাহী পরিষদের থাকবে।
১.১ নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা এ নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারবেন।
ক. মহাপরিচালক
খ. বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা
১.২ এই নীতিমালা সম্পর্কে উত্থাপিত যেকোনো সংশোধনী প্রস্তাব লিখিত আকারে প্রস্তাবকের স্বাক্ষর হয়ে নির্বাহী পরিষদে উপস্থাপন করতে হবে।
লেখক: কবি ও মুজিবপিডিয়ার গবেষণা সহকারী
তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট, সাহিত্য পুরস্কারের নীতিমালা লিংক