আবুবকর সিদ্দিকের পাঁচটি কবিতা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৫১ পিএম

কংকালে অলংকার দিয়ো

আমায় তোমরা নামিয়ে দেবে
দেবার আগে ভাবতে দিয়ো,
কালো খামে শুইয়ে দেবে
তার আগে চোখ মেলতে দিয়ো।
টুকুস একটু নোনতামিঠে
জিভের ডগায় ধরতে দিয়ো,
সবার কাছে ভালো ভালো 
ছোট্ট করে বলতে দিয়ো।
আমায় তোমরা পাঠিয়ে দেবে
কালো খামে মুড়ে দিয়ো, 
দেবার আগে মিনিটপাঁচেক
ভালোমন্দ ভাবতে দিয়ো।
মাংস খসে গেলে পরে
কংকালে অলংকার দিয়ো,
ময়ূরপাখার কলম কেটে
কুশলকথা লিখে দিয়ো,
কিছু কথা না বলা থাক
একা একা থাকতে দিয়ো।
আপন্পাপে পুড়তে দিয়ো
শাপেতাপে গলতে দিয়ো,
নামিয়ে দেবার আগে শুধু
মিনিট পাঁচেক দেখতে দিয়ো।
মাংস খসে গেলে পরে
কংকালে অলংকার দিয়ো।

জানে না কেউ

সামনে
ঘর সংসার
পাওনাদার,
পিছনে 
ভোজবাজী,
জানে না কেউ।
সিঁদ কেটে পিঠে
সরিয়ে নিয়েছে
কলিজা
জানে না কেউ।

পৃথিবীর
সামনেই দিন
শুধু ছলনার ঢাকবার 
পিঠের অন্ধকার
জানে না কেউ।

দুই যুগ পর

দুই যুগ পরে এসে দেখবে ফ্রেম খসে পড়ে গেছে,
ভেতরের ছবি নেই, আরো দেখবে সিঁড়ি ফেটে চৌচির। 
শোবার ঘর থেকে শূন্যতা এসে ডাক দেবে, কণ্ঠস্বর
চিনলেও তাকে আর ভালো লাগবে না। দুই যুগ পর 
সেখানে তোমাকে যেতে হবে, পুরনো প্রেমের নাড়ি
ধরে ধরে পৌঁছুতে হবে পোড়োবাড়ির ভিতে। 
দেখবে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে ভাঙা থামের। তার গলা
জড়িয়ে ধরে তুমি জিরিয়ে নেবে; তারপর উঠে 
বেরিয়ে পড়তে হবে এক আধুনিক কন্ট্রাক্টরের খোঁজে।

অভিবাসী

দশম কাব্যগ্রন্থে আরও কবি লিখলেন : 
‘তোমাকে বুঝতে আমি জলাঞ্জলি দিয়েছি এ
আধখানা মেধাবী জীবন; 
তোমাকে ধরতে আমি আধখানা হৃদয়শিলা
ছিঁড়ে নিয়ে ছুড়ে দিই শিমুলের তুলোর মতন।
বাতাস বহনক্ষম নয় এত ভার;
এ যেন দূষিত সীসা, গুহাবন্দী লবণহ্রদ,
এর ছদ্মবেশী গোপনতা নিজেরই লোহু 
চেটে চেটে। হায় রক্তরাগ!
পটভূমি পীত ও তামাটে হয়ে আসে অস্তমুহূর্তে
রাত নামে মমীর আরকগন্ধ নিয়ে।
করবীর মদিরাগুঁড়োয় অলক্ষ্যেই মরে থাকে
পুষ্পকীট, তাকে আর মেরো না কাঁকন
মৃত্তিকাই জেনেছিল বৃক্ষের কেমন লেনদেন,
শুধু তুমি শোনেনিক বৃক্ষসমাচার। 
তোমাকে জানতে আমি জনপথে দলিত অভিবাসী 
তোমাকে ফোটাতে আমি বাষ্পীভূত মেঘ।

সুন্দরবন

চলো বনে যাই জলপ্রপাতে,
জোড়াবুট ভেসে যাবে উদোম জলসায়। 
তোমার আইডেন্টিটি পাঞ্চ করে নেবে শ্যামল ধর্মে 
জলের তলায় তুমুল বিহার শৈবালেসবুজে;
বয়স থমকে আছে গাছে পাথরে,
বয়সের গাছপাথর নেই।
তরুতরংগে তলিয়ে যাবে বিগ ব্যুরোক্র্যট, 
ভেসে যাবে মিকিমন্ত্রী শাদা ফেনার তোড়ে
চলো হে দুগ্ধপায়ী
সবুজ গাভীর পাশে চলো।
সমুদ্রসেবক অই বনছায়াবৃত
গুহায় আসীন আছে তৃংগ বৃহষ্পতি,
পৌরাণিক দলিলের মূলাধারে;
চলো যাই বনসন্নিধানে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত