আওয়ামী লীগ চীন-ভারত-রাশিয়ার সরকার: গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের জনগণের সরকার নয়। তারা চীন, ভারত ও রাশিয়ার সরকার। এরা বিদেশি আশীর্বাদপুষ্ট সরকার। সুতরাং এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতেই হবে। এই সরকারকে আমরা মানতে বাধ্য নই। এটা আমাদের ভোটের লড়াই, গণতন্ত্রের লড়াই এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই। সুতরাং প্রতিরোধের আগেই মানে মানে কেটে পড়ুন।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল, খালেদা জিয়াসহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির এক দফা দাবিতে এই কালো পতাকা মিছিলের আয়োজন করে বিএনপি। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এটাই বিএনপির বড় কর্মসূচি। পতাকা মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোডাউন করে দলটি।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের সঞ্চালনায় মিছিল পূর্ব বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী প্রমুখ।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে চাই। জিনিসপত্রের দাম অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মানুষ দিশেহারা। ঘরে ঘরে অভাব। দিনমজুর মানুষ আগের মতো পেট ভরে দুবেলা খেতে পারে না।

দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সরকার নাকি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নির্বাচন করেছে। আসলে এই ধারাবাহিকতা তাদের লুটপাট ও মহাদুর্নীতির কারণে। দশ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। যারা পাচার করেছে তারা কিন্তু অস্বীকারও করে না। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

গয়েশ্বর বলেন, নির্বাচন ঘোষণা দিয়ে গণভবনে ঘন ঘন বৈঠক করেছে তারা। তৃণমূল দল করল। কিন্তু সেটাও ছাগলে খেয়ে ফেলল। আজকে ৭ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দিতে যায়নি। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আইডি কার্ড নিয়ে নিজেরা নিজেরা ভোট দিয়েছে। সরকারের বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কার্ড নিয়ে জোর করে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে শিয়াল-কুকুর ছাড়া কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, সেদিন সীমান্তে একজন বিজিবি সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। কেন? কিসের অধিকারে তারা এটা করছে? সরকারের কেন প্রতিবাদ নেই? আজেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন। কারণ অন্য কেউ যখন দেশের সিদ্ধান্ত নেয় তখন তো আমার সার্বভৌমত্ব থাকে না।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ। আমাদের নেতা তারেক রহমান। যিনি ৭ জানুয়ারি দেশের ১৮ কোটি মানুষের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ৩০ জানুয়ারি অবৈধ সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিন রাজপথে আবারও কালো পতাকা মিছিল হবে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘সমকামী‘ নির্বাচন বলে অভিহিত করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, আজকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিলেন! আর যেদিন সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দেশ ছাড়া করলেন তখন কি হয়েছিল? তাহলে প্রধান বিচারপতির পদটা কতটা কলঙ্কিত করলেন?

মিছিলে বিএনপির কেন্দ্রীয়, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, শিরিন সুলতানা, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, তাইফুল ইসলাম টিপু, কাজী রওনকুল ইসলাম টিপু, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, আমিরুজ্জামান খান প্রমুখ।