সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ইন্ডিয়া জোট ছেড়ে ফের ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ছায়ায় আশ্রয় নিলেন। আর এজন্যই ইতিমধ্যে বিহারের বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়েছেন নীতীশ কুমার। নিজের জনতা দল (ইউনাইটেড)-জেডিইউ-এর পরিষদীয় বৈঠকের পরই ইস্তফার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আজ রবিবারই বিজেপির হাত ধরে ফের বিহারের মসনদে বসবেন তিনি। এদিন বিকেল ৪ টায় বিজেপির হয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
গত ১০ বছরে এনিয়ে পঞ্চমবার শিবির বদল করলেন নীতীশ কুমার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, নীতীশকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
গত কয়েকদিন ধরেই বিহারের রাজনীতিতে ডামাডোল চলছে। কানাঘুষা চলছিল, লালু-রাহুলের হাত ছেড়ে আবার মোদি-শাহের হাত ধরবেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার সকালে সেই জল্পনাই সত্যি হল। প্রথমে পাটনায় নিজের বাড়িতে দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন নীতীশ কুমার। তার পরই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। রওনা দেন রাজভবনের উদ্দেশ্যে। রাজ্যপালের হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেন। বেরিয়ে সাংবাদিকদের জানান, “আজ মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। দলের সকলের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত?
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নীতীশ জানান, পুরনো জোট ছেড়ে নতুন জোট করেছিলাম। কিন্তু এখানেও সব ভালো ছিল না। কোনও কাজের কাজ হচ্ছিল না। তাই এই সিদ্ধান্ত।” এবার কি তবে বিজেপির হাত ধরে নবম বারের জন্য শপথ নেবেন নীতীশ? জেডিইউ নেতার জবাব, ‘দেখতেই পাবেন কী হয়।’ নীতীশ কুমারের এই চালে কার্যত বড় ধাক্কা খেল ইন্ডিয়া জোট। নীতীশের সিদ্ধান্তে এখন পালে হাওয়া পাবে বিজেপির জোট এনডিএ।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ২০২২ সালে বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে লালু প্রসাদ যাদবের দল রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সঙ্গে জোট বেঁধে নতুন সরকার গঠন করেছিলেন। পরে তিনি বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’য়ও যোগ দিয়েছিলেন। তবে বছর না পেরোতেই আবারও রাজনৈতিক ডিগবাজি দিলেন নীতীশ।