ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক অস্ত্র ক্রয়ে প্রায় ৪ কোটি ডলারের দুর্নীতি উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে দেশটির প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঁচজন সিনিয়র ব্যক্তি এবং একজন অস্ত্র সরবরাহকারীর বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা।
এসবিইউর বরাতে রবিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ২০২২ সালের আগস্টে এক লাখ মর্টার শেল কেনার জন্য অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লভিভ আর্সেনালের সাথে একটি চুক্তি সই করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী অগ্রিম অর্থ প্রদান করা হয়েছিল এবং কিছু অর্থ বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। তবে কোনো অস্ত্রই তারা দেয়নি।
এসবিইউ জানিয়েছে যে, এক তদন্তে এই দুর্নীতির সাথে জড়িত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা এবং অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লভিভ আর্সেনালের কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা যারা মর্টার শেল কেনার জন্য প্রায় ১৫ কোটি রিভনিয়া চুরি করেছে।
সন্দেহভাজনদের মধ্যে একজন ইউক্রেন থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় আটক করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সে হেফাজতে রয়েছে জানিয়েছে এসবিইউ।
ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, তদন্ত অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক এবং বর্তমান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং অনুমোদিত অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলির প্রধানরা এই অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত।
এসবিইউ আরও জানিয়েছে যে, রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু করার ছয় মাস পরে এই চুক্তি সই করা হলেও এখন পর্যন্ত একটি আর্টিলারি শেল পাঠানো হয়নি।
ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেল বলেছেন যে আত্মসাৎ করা তহবিল জব্দ করা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে ফেরত দেওয়া হবে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির কারণে বারবার আলোচনায় আসছে কিয়েভ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেশটির যোগদানের অন্যতম বাধা এই দুর্নীতি। এর মধ্যে আবার নতুন এ দুর্নীতির বিষয় সামনে এলো। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভকে বরখাস্ত করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।