অবশেষে ভোটের প্রচারে পিটিআই

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে ৮ ফেব্রুয়ারি। শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী প্রচার। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নির্বাচনী আসন পাঞ্জাবের মিয়ানওয়ালিতেও তার বা তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) কোনো পোস্টার সহজে চোখে পড়েনি। অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও সরকারের বাধার কারণেই পিটিআইয়ের প্রচার কর্মসূচি ব্যাপক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইমরান খানকে ‘মাইনাস’ করার পাঁয়তারার অভিযোগ করেছেন তার দলের নেতারা। তবে ইমরান খান কারাগার থেকেই দলের কর্মীদের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তার সেই আহ্বান মেনেই গত বছরের ৯ মে দাঙ্গার পর প্রথমবারের মতো বড় শক্তি প্রদর্শনে গতকাল মাঠে নামে দলটি। নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও কয়েক জায়গায় ধরপাকড়ের ঘটনাও ঘটেছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের গতকাল এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খানের আহ্বানে পিটিআই মনোনীত প্রার্থীরা এবং কর্মীরা দেশব্যাপী শক্তি প্রদর্শনে নামেন। দলের কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক রওফ হাসান ডনের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেছেন, ‘টিকিটধারীদের তাদের নির্বাচনী এলাকায় সমাবেশ ও জনসভা করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। তারা ভোটারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন। একই সঙ্গে এই বার্তা দেবে যে পিটিআই কাউকে তার স্থান দখল করতে দেবে না।’

ডন বলছে, নির্বাচন সামনে রেখে রবিবার দলটি তার ১৫৮ পৃষ্ঠার ইশতেহারও প্রকাশ করেছে। এতে পাকিস্তানের বর্তমান সব প্রধান ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ইমরান খান সারা দেশে টিকিটধারীদের (মনোনীত প্রার্থীদের) রাজপথে নামতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সে সময় বলেন, ‘যারা সমাবেশ করবে না, তাদের টিকিট (মনোনয়ন) বাতিল করা হবে। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বোনও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে দলীয় কর্মী ও টিকিটধারীদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেন।

অবশ্য মাঠে নামার এই ঘোষণা বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। কারণ তারা তাদের গ্রেপ্তার এড়াতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে আছেন। তবে তথ্য সম্পাদক রওফ হাসান বলেন, গ্রেপ্তারের ভয় ছাড়াই সারা দেশে সমাবেশ করার জন্য সব ধপর্যায়ের নেতৃত্বকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে, তবে আমরা বিশ্বাস করি, এটি তাদের নির্বাচনী প্রচারে প্রভাব ফেলবে না। প্রকৃতপক্ষে, তারা আরও বেশি ভোট পেতে পারেন। কারণ ভোটাররা পিটিআইয়ের সঙ্গে কী ঘটছে, তা পর্যবেক্ষণ করবে। আমরা সেই বিষয়ে একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেছি।’ উল্লেখ্য, দুর্নীতির মামলায় গত বছরের ৯ মে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয় ইমরান খানকে। তার সেই গ্রেপ্তার পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশে মারাত্মক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।