সুদান ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ এক হামলায় অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী ও রয়েছেন।
২০২১ সালের পর এটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দুই দেশের সীমান্তে অবস্থিত তেল সমৃদ্ধ আবেই অঞ্চলে এই হামলা ও প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটে বলে জানায় স্থানীয় কর্মকর্তারা। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার দক্ষিণ সুদানের ওয়ারাপ রাজ্যের সশস্ত্র যুবকরা প্রতিবেশী আবেই অঞ্চলে হামলা চালায়। হামলায় অঞ্চলটিতে মহিলা ও শিশু সহ ৫২ জন মারা গেছে। এছাড়া ৬৪ জন আহত হয়েছে বলে জানান আবেইয়ের তথ্যমন্ত্রী বুলিস কোচ।
হামলার পর স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অঞ্চলটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে বলে জানান বুলিস কোচ।
হামলায় নিহতদের মধ্যে জাতিসংঘের এক শান্তিরক্ষীও রয়েছেন। নিহত ওই শান্তিরক্ষী ঘানার সেনা সদস্য।
ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই (ইউএনআইএসএফএ) এর বিবৃতি অনুসারে, গত শনিবার সংঘর্ষের সময় ইউএনআইএসএফএ-এর একটি ঘাঁটিও আক্রমণের শিকার হয়। আক্রমণটি প্রতিহত করা হলেও দুঃখজনকভাবে ঘানার একজন শান্তিরক্ষী ঘটনার সময় নিহত হয়।
আবেইয়ের তথ্যমন্ত্রী কোচ বলেন, “ওয়ারাপের ডিঙ্কাস এবং নুয়ের জাতিগোষ্ঠীর এক বিদ্রোহী নেতার বাহিনী আবেইতে তাদের বিরোধীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল।“
হামলার পর শত শত বেসামরিক নাগরিক জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ইউনিসফা ঘাঁটিতে আশ্রয় নেন।
সুদান এবং দক্ষিণ সুদান উভয়ই তাদের যৌথ সীমান্ত বরাবর তেল সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের মালিকানা দাবি করে থাকে। ২০১১ সালে সুদান থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে আলাদা রাষ্ট্র হয় দক্ষিণ সুদান।