শেষ ওভারের রোমাঞ্চের পর জয় রংপুরের

লক্ষ্যটা ছিল মাঝারি মানের। যা সহজেই ছুঁয়ে ফেলা যেত। মাহিদুল ইসলাম অংকন পেয়েছেন ফিফটি। তবে সেটা ছিল মন্থর ব্যাটে। শেষ বেলায় যা চাপ সৃষ্টি করে। মোহাম্মদ রিজওয়ানও রান তুলেন একই গতিতে। সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় শেষে। জাকের আলি অনিক শেষ ওভারে তান্ডব চালালেও লাভ হয়নি। ৮ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। এই জয়ে রংপুর রাইডার্স উঠে গেছে পয়েন্ট তালিকার তিনে।

দলের চাহিদা মেটাতে পারেননি অধিনায়ক লিটন দাস। কিন্তু রিজওয়ান-অংকনের জুটিতে স্বস্তি ফেরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে। রিজওয়ান ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হলে ফিফটি হাঁকাতে মিস করেননি অংকন। কিন্তু অংকনের ফিফটি কোনো কাজেই আসেনি। ৫৫ বলে ৬৩ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। আর রিজওয়ান ২১ বলে ১৭।

লিটনকে ফেরাতে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ক্যাচ লুফে নেন বাবর আজম। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে যেখানে রংপুর পেয়েছিল ৪৭ রান, সেখানে কুমিল্লা স্কোরবোর্ডে জমা করে ৩৬ রান। দুই দলই হারিয়েছে তখন ১টি করে উইকেট। মোহাম্মদ রিজওয়ান দলকে টানতে থাকেন আস্তে-ধীরে। তবে তাকে সঙ্গ দেওয়া মাহিদুল ইসলাম অংকন ছিলেন দুর্দান্ত। ১৭ রানে থাকা রিজওয়ান অবশ্য রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ হন সাকিবের হাতে।

দলীয় ৬০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো কুমিল্লাকে এরপর সহজ জয়ের পথে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন মাহিদুল অংকন। তবে বল হাতে এদিন ছন্দে থাকা হাসান মাহমুদ নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে ভাঙেন মাহিদুল অংকনের প্রতিরোধ। ব্যক্তিগত ৬৩ রানে অংকনকে বিদায় করতে লং অনে দৌড়ে এসে দারুণভাবে ক্যাচ লুফে নেন বাবর আজম। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে মাহিদুলের ৬৩ রান আসে ৫৫ বল থেকে, যা তিনি সাজান চার বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায়। এরপর খুশদিল শাহ আর তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাট চড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স পৌঁছে যেতে চেয়েছিল জয়ের বন্দরে। এখানেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ৮ বলে ১৩ করে ফেলা খুশদিলকে ফেরান ক্যাচ বানিয়ে।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে কুমিল্লার দরকার ছিল ২৯ রান। সাকিব আল হাসানের বিপরীতে যা প্রায় কঠিন, এবং হয়েছেও তাই। স্ট্রাইকে থাকা তাওহীদ হৃদয় ও রেমন রেইফার ম্যাচ বের করে আনতে পারেননি। ওভারের দ্বিতীয় বলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটের ফাঁদে পড়েন তাওহীদ হৃদয়। ফেরার আগে ২৮ বলে করেন ৩৯ রান। পরের বলে সাকিবকে ওভার বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে লং অফে বাবর আজমের হাতে সহজ ক্যাচ হন রেইফার।

জাকের আলি অনিক ব্যাট হাতে নেমেই দুই বলে হাঁকান দুই ওভার বাউন্ডারি। শেষ দুই বলে তিন রান নিলে ৮ রানের পরাজয় নিশ্চিত হয় কুমিল্লার।