লোহাগাড়া

পাহাড়-জমির মাটি ৪৫ ইটভাটায়

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়, টিলার মাটিসহ কৃষি জমির টপসয়েল নির্বিচারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে মাটিখেকোরা। নির্বিচারে মাটি কাটা থামাতে স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও তা আমলেই নিচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে লোহাগাড়ার ৯ ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় সিন্ডিকেট করে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। সন্ধ্যা নামলেই স্কেভেটরে ফসলি জমির মাটি কেটে ডাম্পারের মাধ্যমে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব মাটিখেকোদের পেছনে সরকার দলীয় নেতাদের সমর্থন  রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে , বড়হাতিয়া ইউনিয়নে মো. রফিক, মেহেদী, মোস্তাক মাঝি, মো. মঞ্জুর, জাহাঙ্গীর, আব্দুর রহিম মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পুটিবিলা ও লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে জিসান, নাজিম, সাহাবুদ্দিন, মো. সহিদ, মো. পারভেজ মাটি ব্যবসা করছেন। এছাড়া চুনতি ও কলাউজানে যথাক্রমে এরশাদুর রহমান, কামরুল ইসলাম, বেলাল, নুরুল আলম, আব্দুর ছবুর, দেলোয়ার, এরশাদ, সেলিম ও এনাম মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পদুয়া ও চরম্বা ইউনিয়নে যথাক্রমে দেলোয়ার, জাহেদ, রিফাত, বাবু, জয়নাল, আসহাব উদ্দিন, খানে আলম, শওকত হোসেন ও মো. হেলাল দীর্ঘদিন ধরে মাটি ব্যবসা করে আসছেন। এছাড়া আধুনগর ইউনিয়নে মো. বেলাল, জমির, মিনহাজ, রাসেল ও শহিদুল ইসলাম মাটির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

অনুসন্ধানে জানা যায়, লোহাগাড়ায় প্রায় ৪৫টি ইটভাটা আছে। প্রতিদিন রাত হলে মাটিখেকোরা কৃষি জমির টপসয়েল কেটে ইটভাটায় মজুদ করছে। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৬ (খ) ধারা অনুযায়ী পাহাড়, টিলা কর্তন নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী লোহাগাড়া সদরের মো. জিসান ও বড়হাতিয়া ইউনিয়নের মোস্তাক মাঝি বলেন, আমরা আগে মাটি ব্যবসা করতাম,  এখন করছি না। তবে আমাদের মালিকাধীন স্ক্যাভেটর কেউ যদি ভাড়া নিতে চায় তাহলে টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী সফিউল ইসলাম বলেন, কৃষির উৎপাদন রক্ষায় মাটির টপসয়েল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কৃষকদের সচেতন করছি। প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি যাতে দরিদ্র কৃষক জমির টপসয়েল বিক্রি না করে। কিন্তু মাটি বিক্রি চলছেই।

ধরিত্রি রক্ষায় আমরা’র (ধরা) সমন্বয়ক সানজিদা রহমান বলেন,  চুনতি অভয়ারণ্যের পাহাড় কেটে প্রতিরাতে মাটি পাচার হচ্ছে ইটভাটায়। এছাড়া কৃষি জমির টপসয়েল বিক্রি হচ্ছে। এখানে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ অনেক জনপ্রতিনিধি এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় মাটিখেকোরা বেপরোয়া হয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাসান বলেন, এসব অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমি প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। কিন্তু আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এখানে জনপ্রতিনিধি, বনবিভাগ, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আরও সক্রিয় ভূমিকা না থাকলে এটি ঠেকানো অসম্ভব।