পান্থকুঞ্জ পার্কে আঘাত এক্সপ্রেসওয়ের

গত সেপ্টেম্বরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত উদ্বোধন করা হয় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। পরবর্তীতে তা মগবাজার হয়ে কুতুবখালী গিয়ে শেষ হবে। এছাড়া একটি অংশ হাতিরঝিল হয়ে পান্থকুঞ্জ পার্ক থেকে পলাশীতে যাবে। অভিযোগ উঠেছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্পের জন্য বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে কাওরান বাজারের ফুসফুসখ্যাত পান্থকুঞ্জ পার্কটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারওয়ান বাজারের সামনে অবস্থিত পান্থকুঞ্জ পার্ক একসময় খুব জনপ্রিয় ছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এই পার্কে ঘুরতে আসত। কিন্তু বর্তমানে এই পার্ক অস্বস্তি ও আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য পার্কের অনেক গাছ কাটা হয়েছে। আর র‌্যাম্প নামার জন্য কাটা হবে আরও কিছু গাছ।

অপরদিকে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পার্কটি ময়লার ভাগাড় ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন রাত হলে ছিনতাই, মাদক সেবন ও ব্যবসা, ভাসমান যৌনকর্মীদের অনৈতিক কাজ পান্থকুঞ্জের স্বাভাবিক চিত্র।

পান্থকুঞ্জ পার্কে পথচারীদের হাঁটার জায়গায় সীমানা প্রাচীর

যদিও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক সূত্র জানায়, এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জন্য পার্কের উন্নয়ন কাজ শুরু করেও বন্ধ রাখা হয়। পার্কের ভেতর এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি খুঁটি পড়বে, যার জন্য কয়েকটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। 

সরেজমিনে পান্থকুঞ্জ পার্কে গিয়ে দেখা যায়, পার্কে যে সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়েছে, সেটি অনেক স্থানে পথচারীদের হাঁটার জায়গা সংকুচিত করে দিয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। আর রাতে চারপাশ অন্ধকার থাকায় আতঙ্কে চলাফেরা করতে হয় তাদের।

কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা মো. তাহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, পার্কের সামনে দেওয়া সীমানা প্রাচীর ফুটপাতের জায়গা কেড়ে নিয়েছে। তাই পার্কের পাশ দিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। আর এই পার্ক এখন এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম। রাত হলেই ছিনতাইকারীরা মোবাইল টান দেয়।

আরেক বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলেন, একসময় এই পার্কে সবাই ঘুরতে আসত। সকালের দিকে হাঁটাহাঁটি করত। কিন্তু এখন এত খারাপ অবস্থা কেউ ভয়ে পার্কে আসে না। আর বড় বড় যেসব গাছ ছিল, বেশিরভাগ কেটে ফেলা হয়েছে। এগুলো যেন দেখার কেউ নেই।

এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য পার্কের অনেক গাছ কাটা হয়েছে

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, পান্থকুঞ্জ পার্ক কারওয়ান বাজারের ফুসফুস ছিল। এই পার্কের সামনে যেভাবে অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে তাতে পার্কটি তার আগের অবস্থান হারাবে। তাছাড়া কারওরান বাজারের সামনে যদি এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প হয়, তাহলে এই এলাকায় জ্যাম আগের চেয়ে বাড়বে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এমএস আকতার দেশ রূপান্তরকে বলেন, এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে সব দিক বিবেচনা করেই আমরা কাজ করে থাকি। কারওয়ান বাজার এলাকা দিয়ে শুধুমাত্র উঠার জন্য একটি র‌্যাম্প করা হবে। যতটুকু প্রয়োজন পার্ক থেকে ঠিক সে জায়গাটুকু নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পের কাজ সব মিলিয়ে ৭২ শতাংশ মতো শেষ হয়েছে। প্রকল্প শেষ হলে ঢাকা শহরের উত্তর-দক্ষিণ করিডরের সড়কপথের ধারণক্ষমতা বাড়বে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (৫১ শতাংশ) এবং চীনা প্রতিষ্ঠান শেনডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন গ্রুপ (৩৪ শতাংশ) ও সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের (১৫ শতাংশ) যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রকল্পের মোট ব্যয় আট হাজার ৯৪০ কোটি টাকা, যার ২৭ শতাংশ সরকার ভিজিএফ হিসেবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে দেবে। প্রকল্পের মূল দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার, র‌্যাম্পসহ এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।