শেষ আষাঢ়ের বৃষ্টিতে পানির নিচে ঢাকা

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

আষাঢ়ের শেষ প্রান্তে এসে রাজধানী ঢাকায় নেমেছে রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি। গভীর রাত থেকেই আকাশের মেঘের ঘনঘটা আর গুরুগুর গর্জন জানান দিচ্ছিল এক প্রলয়ঙ্করী বর্ষণের। রবিবার (১২ জুলাই) ভোরের আলো ফুটতেই সেই মেঘ ভেঙে নামে মুষলধারে বৃষ্টি। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও বৃষ্টির তীব্রতা কমেনি, বরং আকাশ কালো করে অঝোরে ঝরছে জলধারা। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ আষাঢ়ের এই আকস্মিক বর্ষণে রাজধানীতে মাত্র ছয় ঘণ্টাতেই ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর গত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭ মিলিমিটারে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ভারী বর্ষণের ধারা আজ সারাদিনই অব্যাহত থাকতে পারে।

কাকলী র‍্যাম্পের নিচে থৈ থৈ পানি

আজ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় সকাল থেকেই অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং শ্রমজীবীদের ঘরের বাইরে বের হতে হয়েছে। কিন্তু বিরতিহীন এই বৃষ্টি যেন পুরো নগরজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। রাজধানীর অধিকাংশ প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলি এখন পানির নিচে। কোথাও হাঁটু সমান আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। তীব্র জলজটের কারণে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত সীমিত। ফলে জরুরি প্রয়োজনে যারা বাইরে বেরিয়েছেন, তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় জলমগ্ন সড়কে রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। নগরীর বহু নিচু এলাকার অলিগলিগুলোতে পানি এমনভাবে জমেছে যে, দেখে মনে হচ্ছে পথচারীদের যেন সাঁতার কেটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর একটা বড় অংশ এখন পানির নিচে। মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা, ইসিবি চত্বর, মালিবাগ, শান্তিনগর এবং সায়দাবাদ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যাওয়ার নতুন রাস্তা, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট এবং ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা পানিতে থইথই করছে। পুরান ঢাকার শনির আখড়া, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর ১৩, কালশী এবং হাতিরঝিলের কিছু অংশেও একই চিত্র দেখা গেছে। গুলশান লেকপাড়, কালাচাঁদপুর ও বারিধারা এলাকার সংযোগ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সড়কে জমে থাকা পানিতে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝরাস্তায় আটকে থাকতে দেখা গেছে, যা চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আজকের এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জরুরি কাজে বের হওয়া কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, ভোর থেকেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামায় রাস্তায় কোনো যানবাহন পাচ্ছিলেন না। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে রওনা হলেও পুরো পথেই তাকে জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হয়েছে। 

অন্যদিকে বিজয় সরণি ও তেজগাঁও এলাকার এক সিএনজিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, পানি জমে থাকায় সড়কে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক চালককে তাদের সখের যানবাহন ঠেলে নিয়ে যেতে হয়েছে। 

এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনের উভয় পাশে তীব্র জলজট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং সড়কের জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কুইক রেসপন্স টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত