শেষ ৬ বলে জেতার জন্য কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের দরকার ছিল ২৯ রান। রিংকু সিংয়ের অভাবনীয় কীর্তির পর সেটাও নিরাপদ নয়। কে জানে রেমন রেইফারের ক্যারিবীয় রক্ত যদি জেগে ওঠে! সাকিব আল হাসানের শেষ ওভারটা যখন শুরুই হলো ওয়াইডে, তখন রংপুরের ডাগআউটে খানিকটা দুশ্চিন্তা। কত কিছুই তো ঘটে রোমাঞ্চকর এই খেলায়!
তাওহীদ হৃদয় পারেননি, রেমন রেইফার স্ট্রাইকই পাননি আর জাকের আলি অনিকের হয়ে গেছে বড্ড দেরি। শেষ ওভারটার শেষ ৪ বলে ১৮ রান নেওয়ার আগে দুটো উইকেট খুইয়েছে কুমিল্লা। ওভারের প্রথম বলে দুই রান নিতে গিয়ে মোহাম্মদ নবীর দুর্দান্ত থ্রো-তে রানআউট হয়েছেন ২৮ বলে ৩৯ রান করা হৃদয়। পরের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অফে স্বদেশি বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন আমির জামাল। ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়ে সাকিবের সেই একটাই উইকেট, ব্যাটিং করেননি। তবুও ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বল হাতে তিনি ছিলেন ২২ গজে, তার শেষ ওভারটাই নিশ্চিত করেছে রংপুর রাইডার্সের ৮ রানের জয়। হার দিয়ে শুরু, এরপর জয় এবং আবার হার, তারপর টানা দুই জয়। রংপুর রাইডার্স ফিরেছে জয়ের লড়াইতে। অন্যদিকে হেরে শুরু করা কুমিল্লা টানা দুটো ম্যাচ জিতে ফের হারল। ৫ ম্যাচ শেষে রংপুরের পয়েন্ট ৬, ৪ ম্যাচ পর কুমিল্লার ৪।
টসজয়ী রংপুর একাদশ কাল নেয়নি রনি তালুকদারকে। কুমিল্লা একাদশে রাখেনি ইমরুল কায়েসকে। রংপুরের ইনিংসকে বলা যায় ‘দশে মিলি করি কাজ’। কারও হাফসেঞ্চুরি নেই। তবে যে ৭ জন ব্যাটসম্যান ব্যাটিং করেছেন, তাদের ভেতর একমাত্র শামীম হোসেন বাদে বাকি সবাই ১০০’র বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন। সর্বোচ্চ ৩৬ বলে ৩৭ বাবর আজমের, ২০ বলে ৩৬ আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের আর ২১ বলে ৩০ রান করেন ফজলে মাহমুদ। ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে জোড়া শিকার রেমন রেইফারের, মোস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। রংপুরের সংগ্রহ ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১৬৫ রান।
১৬৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ‘গোল্ডন ডাক’ অধিনায়ক লিটন দাসের। ওমারজাইয়ের বলে ক্যাচ দিয়েছেন বাবর আজমের হাতে। ২১ বলে ১৭ রান করে বিদায় নেন মোহাম্মদ রিজওয়ানও। তবে তার আগে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের সঙ্গে গড়েন ৫৯ রানের জুটি। ১০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ৬০ রান, হাতে ৮ উইকেট। লক্ষ্যটা সহজই মনে হচ্ছিল কুমিল্লার জন্য। শেষ দিকে দ্রুত উইকেট খুইয়েই চাপে পড়ে কুমিল্লা। ৫৫ বলে ৬৩ রান করে ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হয়ে যান অঙ্কন, অন্যদিকে খুশদিল শাহও দুই ছক্কায় সম্ভাবনা জাগিয়ে ওমারজাইয়ের বলে আউট হয়ে যান ৮ বলে ১৩ রান করে। শেষ ১৮ বলে কুমিল্লার জিততে দরকার হতো ৫০ রান, হাতে ৭ উইকেট। টি-টোয়েন্টির মানদন্ডে যা বেশ স্বাভাবিক একটা পরিস্থিতি এবং এমন অবস্থায় পরে ব্যাট করা দলই জেতে বেশিরভাগ সময়ে। কুমিল্লা পারল না খুশদিল আর হৃদয়ের অসময়ে আউট হওয়া আর রেমন রেইফারের শেষ ১৩ বলের ভেতর মাত্র ৩ বলে স্ট্রাইক পাওয়া। ১৯তম ওভারে হাসান মাহমুদ বেশ দারুণ বল করেছেন, প্রথম বলে বাউন্ডারি হজম করেও দিয়েছেন মাত্র ৭ রান। দুটো ডট বল আর তিনখানা সিঙ্গেলস। তাতেই ২৯ রানের বড় পুঁজি বাঁচানোর সুযোগ এসেছে সাকিবের সামনে। প্রথম বলেই রানআউট হৃদয় আর পরের বলে আমির জামালের বিদায়ের পর জাকের আলি অনিক কিছু চার ছয় মারলেও জয়ের অঙ্ক ততক্ষণে মিলেই গেছে রংপুরের।