উপজেলা চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারী তরুণী স্বজনদের বাড়িতে

গত চারদিনেও বাড়িতে ফেরেনি ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারী সেই তরুণী। তবে তরুণীর  পারিবারের দাবি সে নিরাপদে আত্মীয় বাড়িতেই রয়েছে। অন্যদিকে গাজী এজাজ আহমদের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর একাধিকবার কথোপকথনের একটি কললিস্ট সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। ফলে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৮ জানুয়ারি রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় হাজির হয়ে জবানবন্দি দিয়ে রাত ১২টার দিকে ওই তরুণী তার অভিভাবকদের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসে ডুমুরিয়ায় গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে চলে যায়। তবে সে রাতে সে বাড়িতে যায়নি। তারপর থেকে তার অবস্থান নিয়ে মানুষের মধ্যে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়।

কিন্তু গতকাল বুধবার ওই তরুণীর মামাতো ভাই ইব্রাহিম হোসেন জানান, তার ফুফাতো বোন (ভুক্তভোগী তরুণী) বর্তমানে যশোর জেলার কেশবপুরে তাদের আত্মীয় বাড়িতে নিরাপদে রয়েছে। তার সঙ্গে তার মাও আছে।

ইব্রাহিম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার ফুফাতো বোন তাদের বাড়িতে নানির কাছে লালিত-পালিত হয়। সে আগে থেকেই কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ। আর এই সুযোগটি নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এটি আসলে রাজনৈতিক বিরোধের জের বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে, ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, কী হয়নি— তা নিয়ে মানুষের মধ্যে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। দুপক্ষের মধ্যে চলছে কাঁদা ছোড়াছুড়ি। কেউ কেউ ধর্ষণের অভিযোগটি সত্য বলে উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজের বিরুদ্ধে সমালোচনা করছেন। আবার কেউ কেউ উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে এটিকে সাজানো নাটক বলে এজাজকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছে। এ ঘটনাকে নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলায় এখন সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। চায়ের দোকান থেকে সব জায়গায় এখন এটি নিয়েই আলোচনা—সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে, ঘটনার সত্য-মিথ্যা নির্ভর করছে তরুণীর মাইক্রো বায়োলজিক্যাল ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।

খুমেক হাসপাতালের ওসিসির কো-অর্ডিনেটর ডা. সুমন রায় জানান, মাইক্রো বায়োলজিক্যাল রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ থেকে ১০দিন ও ডিএনএ নমুনার পরীক্ষার ফলাফল পেতে তিনমাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

অপরদিকে, গাজী এজাজ আহমদের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর একাধিকবার কথোপকথনের একটি কললিস্ট সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ বলেন, ধর্ষণের ব্যাপারে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।

কললিস্টের ব্যাপারে এজাজ বলেন, হয়তো তার প্রয়োজনে আমার কাছে ফোন দিতে পারে। বিভিন্ন নম্বর থেকে তো অনেক ফোন আসে। এটিও সে রকম হতে পারে। আমিও চাচ্ছি ঘটনাটি আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হোক।