রাশিয়া ও ইউক্রেন আরও চার শতাধিক যুদ্ধবন্দি বিনিময় করেছে। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সম্প্রতি ৬৫ জন ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দিসহ ৭৩ জনকে নিয়ে ইউক্রেন সীমান্তে একটি রুশ সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ইউক্রেনের ৬৫ জন বন্দিই প্রাণ হারান বলে জানায় রুশ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর এই প্রথম বন্দি বিনিময় করলো দু’দেশ।
রুশ সামরিক বাহিনী বলেছে, বুধবার (৩১ জানুয়ারি) উভয় পক্ষ ১৯৫ জন করে সৈন্য ফিরিয়ে দিয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ২০৭ ইউক্রেনীয় সেনাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত মাসের শেষ সপ্তাহে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ইউশিন আইএল-৭৬ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। রাশিয়ার দাবি, উড়োজাহাজটিতে ইউক্রেনের ৬৫ যুদ্ধবন্দি ছিলেন। তবে মস্কোর এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কিয়েভ।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত বুধবার দাবি করেছেন, আইএল-৭৬ সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ব্যবহার করে পশ্চিম বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেন ভূপাতিত করেছে। তবে নিজের এই দাবির সমর্থনে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
রাশিয়ান সামরিক বাহিনী আগে বলেছিল, উড়োজাহাজটিতে কয়েক ডজন ইউক্রেনীয় সৈন্য ছিল। বন্দি বিনিময়ের জন্য তাদের ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এছাড়া উড়োজাহাজটিতে ছয় রাশিয়ান ক্রু এবং তিনজন রুশ কর্মকর্তাও ছিলেন। দুর্ঘটনায় তারা সবাই প্রাণ হারান।
কিয়েভ অবশ্য সরাসরি রাশিয়ার ওই বিবৃতি অস্বীকার করেনি। তবে বলেছে, এখনও কিছুই নিশ্চিত করা হয়নি। গত সপ্তাহে কিয়েভের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছিলেন, বিধ্বস্ত হওয়া রুশ আইএল-৭৬ উড়োজাহাজে যুদ্ধবন্দি থাকার সম্ভাবনা তিনি ‘বাদ দিচ্ছেন না’।